শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সদরের পালং মডেল থানায় এ মামলা করা হয়েছে। সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আকরাম এলাহী বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেছেন।
১১ জনের নাম উল্লেখ করে ৪০/৫০ জন ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য সিভিল সার্জন ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, এ বিষয়ে ১১জনের নাম উল্লেখ করে ৪০/৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা হয়েছ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬জনকে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সলেমান কাজী ওরফে আল-আমিন (৩০), জসিম কাজী (৪০) আব্দুল জলিল কাজী (৩২), রবিউল কাজী (৩২) জায়েদা বেগম (৬০) ও আয়েশা মনি (১৯)।
শরীয়তপুর সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন জানান, চিকিৎসক নাসির ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর সারা শরীরে আঘাত করা হয়েছে। তবে মাথার আঘাতটা জটিল। হামলার ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু অভিযোগ এনে রাত ১টার দিকে লাল মিয়া কাজীর স্বজনেরা মিলে চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপর চড়াও হন। হামলাকারীরা ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে ঢুকে নাসিরের মাথায় পাথর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করেন।
এ সময় হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ (৫৮), আনসার গার্ড কমান্ডার এপিসি আব্বাস আলী (৪৬), সদর হাসপাতালের আনসার সদস্য সোহেল সরদার (২৫), কামরুল (৩০), আজিজুল হক (২৬) ও কাউসার (২৮) চিকিৎসককে উদ্ধার করতে আসলে তাদেরকে কিল-ঘুষি মারা হয়। পরে চিকিৎসক নাসিরকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।