গাজীপুরের পাঁচ খুনের প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার মরদেহ পাওয়া গেছে। পদ্মায় ঝাঁপ দেওয়ার ছয় দিন পর মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিসসংলগ্ন তার মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় পাওয়ায় যায়। গতকাল শনিবার দুপুরে পদ্মা সেতু থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে লৌহজং থানা পুলিশ ও মাওয়া নৌ-পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মো. ইলিয়াস হোসেন এ তথ্য জানান।
ইলিয়াস হোসেন আরও জানান, নৌপুলিশ লাশটি উদ্ধারের পর গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ৫ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তার ভাই আব্দুল জব্বার ও কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত জুবায়ের রহমান লাশটি ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান হয়।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, ‘হত্যাকান্ডের পর প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা গত সোমবার পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় পুলিশ দেখতে পায়, সোমবার সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা একজন একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে কয়েক মিনিট সেখানে অবস্থান করেন। পরে তিনি রেলিং টপকে পদ্মায় ঝাঁপ দেন। তদন্তে ওই ব্যক্তিকে ফোরকান মোল্লা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।’
পুলিশের ধারণা, ওই হত্যাকান্ডের পর ফোরকান পদ্ম সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তখন তার লাশ পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগেই দুজনকে আটক করেছিল পুলিশ।
গত শুক্রবার রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম, মারিয়া ও ফারিয়া এবং শ্যালক রসূল মিয়া। পেশায় প্রাইভেটকারচালক ফোরকান মিয়া বছরখানেক আগে বাসাটি ভাড়া নেন। ফোরকান গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে।