জিলকদ মাসের শেষ দিন আজ। আগামীকাল সোমবার ( ১৮ মে) ইসলামি চন্দ্র বর্ষপঞ্জির আরবী জিলহজ মাসের শুরু। বর্ষপঞ্জির ১২তম ও সর্বশেষ মাস হলো জিলহজ। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি ‘হজ’ পালন এবং ত্যাগের প্রতীক ‘কুরবানি’এই মাসেই অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বছরের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় মাসটির প্রথম ১০ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এই দশকের রাতগুলোর শপথ করেছেন।
জিলহজ মাসের প্রধান করণীয় হলো প্রথম ১০ দিন বেশি বেশি নেক আমল করা, ৯ তারিখ আরাফার রোজা রাখা, যাদের সামর্থ্য আছে তাদের কুরবানি দেওয়া ও কুরবানির নিয়ত থাকলে চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত শরীরের কোনো চুল ও নখ না কাটা।
জিলহজ মাসের বিশেষ আমল ও করণীয়গুলো জেনে নিন
নফল রোজা পালন
জিলহজ মাসের ১ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। বিশেষ করে ৯ জিলহজ (আরাফার দিন) রোজা রাখার ফজিলত অনেক বেশি।
কুরবানি করা
যাদের ওপর জাকাত ফরজ বা আর্থিক সামর্থ্য আছে, তাদের জন্য ঈদুল আজহার দিন (১০ জিলহজ) ও পরবর্তী দুই দিন (১১ ও ১২ জিলহজ) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কুরবানি করা ওয়াজিব।
চুল ও নখ না কাটা
যারা কুরবানি দেবেন, তাদের জন্য জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানি দেওয়া পর্যন্ত নিজের শরীরের নখ, চুল বা কোনো পশম না কাটা মুস্তাহাব।
তাকবীরে তাশরিক পড়
৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবীরে তাশরিক (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ) পড়া ওয়াজিব।
বেশি বেশি জিকির ও ইবাদত
এই দিনগুলোতে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত, দান-খয়রাত, তাহাজ্জুদ আদায় ও ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ পড়া উচিত।
হজ পালন
জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১৩ তারিখের মধ্যে পবিত্র কাবা শরীফে হজ পালিত হয়। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলিমদের জন্য হজ আদায় করা অন্যতম ফরজ।