ভূমিকম্পের পূর্বে টের পায় যারা 

ভূমিকম্প কোথাও আঘাত করার আগে ভূগর্ভে চাপ জমে। যেখান থেকে তৈরি হয় micro-seismic waves. . এগুলো এত ক্ষুদ্র যে, মানুষ তা অনুভব করতে পারে না। কিন্তু যদি লক্ষ্য করা যায়, তাহলে দেখা যাবে বিড়ালের গোঁফ, কুকুরের কান, পাখির পালক ও ভারসাম্য সিস্টেম এবং গরুর পায়ের হাড়ের কম্পন সেন্সর এই ক্ষুদ্র তরঙ্গ রেজিস্ট্রার করতে পারে। ফলে ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ আগে এরা চঞ্চল হয়ে ওঠে। লুকিয়ে পড়তে চায় কোথাও কিংবা চিৎকার করে ডাকতে থাকে। আবার ভূমিকম্পের আগে মাটির নিচে infrasound  তৈরি হয়। যার ফ্রিকোয়েন্সি মানুষের কানে পৌঁছায় না, কিন্তু বিভিন্ন প্রাণী তা শুনতে পারে। অথচ মানুষ কেন সেটা শুনতে পারে না? কারণ  মানুষ শুধু 20Hz থেকে 20,000 Hz  পর্যন্ত শুনতে পারে। সেখানে কুকুর ৫ঐু , হাতি ১ ঐু পর্যন্ত সিগন্যাল ধরতে পারে। আর বিড়াল এবং পাখি আরও দূরের low-frequency vibration  ধরতে পারে। এই ইনফ্রাসাউন্ড ভূমিকম্পের আগেই, মিনিট বা ঘণ্টা সময় নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। তখনই এসব পশু-পাখি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। অন্যদিকে ভূমিকম্পের আগে ভূগর্ভ থেকে radon gas  নির্গত হয়, যা মানুষ টের পায় না। কিন্তু প্রাণীরা তা পায়। ভূমিকম্পের আগে মাটির ফাটলে চাপ সৃষ্টি হয়। এই চাপ থেকে বের হয় positive ions  বা চার্জড কণিকা। এরপর তা বাতাসে ছড়িয়ে যায়। প্রাণীরা এই  বৈদ্যুতিক পরিবর্তন খুব দ্রুত টের পায়। বিশেষ করে বিড়াল, কুকুর, বিভিন্ন পাখি এবং মাছের নার্ভ সিস্টেমে তা অস্বস্তি ও অস্থিরতা তৈরি করে। এর ফলে এরা আচমকাই দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। পশুপাখি অকারণে কিছু করে না। আমরা যেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করি।