ঈদুল আজহার পরপরই দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির (এফবিসিসিআই) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানান, দাবি আদায়রত আন্দোলনকারীরা। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক তাদের এ আশ্বাস দিয়েছেন, বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদের সদস্য সচিব জাকির হোসেন। তিনি বলেন, সংগঠনটির প্রশাসক ও বাণিজ্য সচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খানের সঙ্গে পরিষদ নেতাদের বৈঠকে এ আশ্বাস পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অন্যান্য দাবি-দাওয়া যৌক্তিকভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসক। তিনি জানান, গতকাল রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে সংগঠনটির কার্যালয়ে সংস্কার পরিষদের পূর্ব ঘোষিত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে এফবিসিসিআই প্রশাসকের আশ্বাসে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করে।
পরিষদের নেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না দিয়ে বর্তমান প্রশাসক কৌশলে দায়িত্বে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সদস্যদের চাঁদা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তারা। নেতারা দাবি করেন, এখন আর তারা প্রশাসন থেকে আসা কোনো প্রশাসকের অধীনে কোনো নির্বাচন চান না। নির্বাচন হতে হবে ব্যবসায়ী প্রশাসকের অধীনেই।
জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রশাসকের অপসারণ ও দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। তবে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে।
তিনি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসকের সঙ্গে সংস্কার পরিষদের সদস্যদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি সংস্কার পরিষদের বক্তব্য ধৈর্য সহকারে শুনেন এবং বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।
জাকির হোসেন জানান, প্রশাসকের পক্ষ থেকে আমাদের আশ^াস দেওয়া হয়েছে ঈদের আগেই ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে একজনকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে।। আর ঈদুল আজহার পরপরই এফবিসিসিআই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।
এ ছাড়া সংস্কার পরিষদের দাবি, বাণিজ্য সংগঠনগুলোর বাৎসরিক চাঁদার হার কমিয়ে পূর্বের অবস্থায় অথবা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনবেন; ব্যক্তি পর্যায়ের সদস্য ফি ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনবে;
আইনগত কাগজপত্র জমাদানের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে প্রশাসকের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন।