ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন ভিসি নিয়োগ কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার ডুয়েটের নতুন ভিসি ড. মোহাম্মদ ইকবালের যোগদানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইউএনও, পুাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের ভিসি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এরপর ডুয়েটের শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে রাত থেকেই বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। তাদের দাবি, ডুয়েটের শিক্ষকদের মধ্যে থেকেই ভিসি নিয়োগ দিতে হবে।
এদিকে গতকাল সকাল ৯টা থেকেই নতুন ভিসির নিয়োগ বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। ফলে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সব প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা যায়, মূল ফটকে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে বাইরে থেকে ভিসি সমর্থকরা উপাচার্যকে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় ইটের আঘাতে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, ডিসি রবিউল, সদর থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী, সদর উপজেলা ইউএনও সাজ্জাত হোসেন, সাংবাদিক দেলোয়ার, ছাত্রদল নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীসহ ২৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
অপর একটি সূত্রে জানা যায়, নতুন ভিসি ডুয়েটে প্রবেশ কেন্দ্র করে শিবিরের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রদলের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল দায়িত্ব নিতে সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরে অবস্থিত ডুয়েটে যান। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা শিবিরের ডুয়েট শাখা ও বহিরাগত মিলে ৩ শতাধিক নেতাকর্মী মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। একপর্যায়ে গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে শিবিরের নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় তিনি নিজেসহ অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠক চলছে।
আন্দোলনরত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহাতাব উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কাউকে উপাচার্য হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। ডুয়েট থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ভিসি সমর্থক শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সভাপতি জামিল হাসান বলেন, রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত। এখানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করে তুলেছে।
নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল জানিয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রের নিয়োগ অনুযায়ী অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত হলে ক্যাম্পাসে গিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন জানান, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।