ন্যু স্টেডিয়ামে সমর্থকদের নীরব প্রতিবাদের মুখে মেসিরা

অবশেষে নিজেদের নতুন ফুটবল স্বর্গে জয়ের মুখ দেখল ইন্টার মায়ামি। লিওনেল মেসির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পোর্টল্যান্ড টিম্বার্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ‘নু স্টেডিয়ামে’ প্রথম জয় তুলে নিয়েছে হ্যারনসরা। ম্যাচে নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি অন্য গোলটিতেও সরাসরি অবদান রাখেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

সোমবার (১৮ মে) ২৬ হাজার আসন বিশিষ্ট নতুন এই স্টেডিয়ামে খেলতে নেমেছিল ইন্টার মায়ামি। এর আগে নিজেদের নতুন হোমে খেলা ৪টি ম্যাচের ৩টিতে ড্র এবং ১টিতে হারের মুখ দেখতে হয়েছিল মায়ামিকে। তবে রোববার রাতের ম্যাচটি ছিল পুরোই ভিন্ন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা মায়ামি ৩১তম মিনিটে লিড নেয়। লুইস সুয়ারেসের কাছ থেকে পাস পেয়ে বল বাড়িয়ে দেন টেলাস্কো সেগোভিয়া। সেই বল ধরে ডি-বক্সের ১২ গজ দূর থেকে দারুণ শটে পোর্টল্যান্ড গোলরক্ষক জেমস প্যান্টেমিসকে পরাস্ত করেন মেসি। এটি চলতি মৌসুমে মেসির ১৩তম গোল।

এর ঠিক ১১ মিনিট পর, ৪২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মায়ামি। এবার গোলদাতার ভূমিকায় জার্মান বার্টারেমে, তবে নেপথ্য কারিগর সেই মেসিই। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ এক ড্রিবলিংয়ে বল বাড়িয়ে দেন বার্টারেমেকে। নিখুঁত শটে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচে জয় এলেও গ্যালারিতে মায়ামির কট্টর সমর্থক গোষ্ঠী ‘লা ফ্যামিলিয়া’ -র একটি ভিন্ন রূপ দেখা গেছে। নতুন স্টেডিয়ামে আসার পর খেলোয়াড়রা তাদের প্রাপ্য মূল্যায়ন বা অভিবাদন জানাননি—এমন ক্ষোভ থেকে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত তারা সম্পূর্ণ নীরব থেকে প্রতিবাদ জানান। ফলে মায়ামির চিরচেনা ড্রাম বাজানো, গান গাওয়া বা পতাকা ওড়ানোর দৃশ্য ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তের আগে দেখা যায়নি।

সমর্থকদের এই আচরণে কিছুটা অবাক হলেও তাদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করছেন গোলদাতা বার্টারেমে, "অবশ্যই এটি আমাদের জন্য বেশ আশ্চর্যজনক ছিল। তবে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও ঠিক আছে, কারণ আমাদের কাছ থেকে এমন সম্মান বা স্বীকৃতি তারা পেতেই পারেন। আসল বিষয় হলো আমাদের সবাইকে এক সুতোয় গাঁথা থাকতে হবে এবং একই দলের হয়ে লড়তে হবে, যেমনটা আজ আমরা করেছি। অনেক দিন পর আমরা (এই মাঠে) জিতলাম, এটি তাদের মনেও আনন্দ এনে দেবে।"