এসএসসি পরীক্ষা

প্রশ্নপত্র পরিবর্তন-বহিরাগতকে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে ২ শিক্ষককে শোকজ

পিরোজপুরের নাজিরপুরে হাজী আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্র পরিবর্তন ও বহিরাগতকে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শ্রী দীনেশ চন্দ্র ঘরামীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) বিষয়টি জানাজানি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে বেআইনিভাবে প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের অভিযোগ আনা হয় প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এছাড়া ২৮ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে প্রবেশপত্র ও সঠিক পরিক্ষার্থী যাচাই না করে বহিরাগত পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষক ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শ্রী দীনেশ চন্দ্র ঘরামীর বিরুদ্ধে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোস্তফা জুবায়ের হায়দার স্বাক্ষরিত পৃথক দুইটি পত্রে অভিযুক্তদের আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদ অথবা তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের সার্বিক সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

এবিষয়ে নাম প্রকাশ অনিচ্চুক এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন অভিযোগ সত্যিই উদ্বেগজনক। আমরা চাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নাম প্রকাশের শর্তে অন্য একজন অভিভাবক বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত সঠিক তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এব্যাপারে একটি গুজব কথা উঠেছিল। আমরা এব্যাপারে ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। তার অনুমতি ছাড়া কোনো কথা বলতে পারবো না।

অপর শিক্ষক শ্রী দীনেশ চন্দ্রকে ফোন দিলে ফোনের কল কেটে দিয়ে ফোনটি বন্ধ করে রাখেন।

নাজিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  মো.জহিরুল আলম জানান, এবিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  নেওয়া হবে।