শিংয়ের মাঝে কোঁকড়ানো একঝাঁক চুল। মাথার সামনের সেই চুলের স্টাইল দেখতে অনেকটা ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমারের মতো। মূলত এই বিশেষ আকৃতি ও স্টাইলের কারণেই শখ করে ফ্লেকভি (ফেলেক্স ভি) জাতের বিশালদেহী এই ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘নেইমার’। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের অভয়নগর উপজেলার এই ‘নেইমার’ এখন পুরো জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ডাঙামশিয়াহাটি গ্রামের বাসিন্দা দেবু পাঁড়ে (৩৩)। তাঁর খামারে সাড়ে তিন বছর ধরে বড় হওয়া এই ষাঁড়টির সবচেয়ে বড় চমক হলো—এটি কোনো ধরনের দড়ি বা বাঁধন ছাড়াই নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়ায়। সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার এবং প্রায় ৩৫ মণ (১৩০০ কেজি) ওজনের এই দানবীয় পশুটি স্বভাবের দিক থেকে অত্যন্ত শান্ত।
তবে নামের সাথে মিল রেখে স্বভাবের মধ্যেও যেন কিছুটা ফুটবলারের ছোঁয়া রয়েছে তার। কোনো ক্ষতি না করলেও মাঝেমধ্যে মাঠে বল হেড দেওয়ার মতো করে শিং দিয়ে মালিককে মৃদু গুঁতো দেয় সে। আবার কখনো কখনো হেলেদুলে খেতে দেওয়া থালা-বাটি বা পাত্রে লাথি মেরে নানা রকম মজার ভঙ্গিমায় মেতে ওঠে এই ‘নেইমার’।
পড়াশোনা শেষ করে ২০২২ সাল থেকে পারিবারিক খামার গড়ে তোলেন নিরাঞ্জন পাঁড়ের ছেলে দেবু পাঁড়ে। বর্তমানে তাঁর খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ৬টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ষাঁড়। তবে সব আকর্ষণ কেড়ে নিয়েছে ‘নেইমার’।
বাদামী রঙের শরীরে সাদাটে স্ট্রাইপ থাকা এই রাজকীয় ষাঁড়টির পেছনে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার খাবার লাগে। তার খাদ্য তালিকায় রয়েছে খৈল, ভুষি, খড়, ভুট্টার গুঁড়া, সবুজ ঘাস ও সামান্য ভাত। খাবারের পাশাপাশি শরীর ঠাণ্ডা রাখতে দিনে তিনবার করে গোসল করাতে হয় তাকে। দেবুর পাশাপাশি তাঁর মা ইতি পাঁড়েও দিন-রাত পরিশ্রম করে সন্তানস্নেহে এই পশুর পরিচর্যা করছেন। গোয়াল ঘরের পাশে একটি ছাদ দেওয়া প্রশস্ত ঘরে একা একাই রাজকীয়ভাবে থাকে সে। গলায় দড়ি না থাকায় ঘর থেকে যখন-তখন উঠানে বেরিয়ে পায়চারি করে।
খামারি দেবু পাঁড়ে জানান, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের ছেলের মতো ভালোবাসায় আগলে রেখে বড় করেছেন এই ষাঁড়টিকে। উঁচু দেহ আর আকর্ষণীয় গঠনের কারণে এটি সহজেই সবার নজর কাড়ছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ দেবুর বাড়িতে ভিড় করছেন এটি দেখতে; কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন।
ইতিমধ্যেই অনেকেই ‘নেইমার’কে কেনার জন্য খামারে এসে দাম জানতে চেয়েছেন। তবে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় এখনো এটি বিক্রি করা হয়নি। খামারি দেবু আশা করছেন, কোরবানির হাটে ওঠার আগেই ১২ লাখ টাকা দাম পেলে তিনি তাঁর সাধের ‘নেইমার’কে ক্রেতার হাতে তুলে দেবেন।