সপ্তাহের ব্যবধানে হিলিতে পেঁয়াজ বেড়েছে ১৫ টাকা

সরবরাহ কমের অজুহাতে আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা।

ঈদের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে মুড়িকাটা পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে দাবি বিক্রেতাদের।

সোমবার (১৮ মে) হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে,বাজারে প্রতিটি দোকানেই পেঁয়াজের ভালো সরবরাহ লক্ষ্য করা গেছে। এরপরও পেঁয়াজের দাম খানিকটা ঊর্ধ্বমুখি। একসপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ২৮ থেকে ৩০টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা মিনহাজুল ইসলাম বলেন,বেশ কিছুদিন ধরেই পেঁয়াজের দাম কিন্তু ৩০টাকার মধ্যে উঠানামা করছিল। এতে করে আমাদের মত মানুষদের বেশ সুবিধাই হচ্ছিল আমরা আমাদের চাহিদামত পেঁয়াজ কিনতে পারছিলাম পয়সা কম লাগছিল। কিন্তু ঈদ ঘনিয়ে আসতেই পেঁয়াজের বাজার তো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুল জব্বার বলেন,গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫টাকা করে বেড়েছে। এটা কোন কথা বলেন যে পেঁয়াজ আমরা ২৮ থেকে ৩০টাকায় কিনেছিলাম সেই পেঁয়াজ এখন ৪৫টাকা কিনতে হচ্ছে। এখন বাধ্য হয়ে আগে যেখানে এক কেজি পেঁয়াজ কিনতাম এখন সেখানে হাফ কেজি দিয়ে চালাতে হচ্ছে। এছাড়া তো কোনো উপায় নেই।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, বাজারে যে মুড়িকাটা পেয়াজের সরবরাহ ছিল বেশ কিছুদিন হলো মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ার কারনে এই জাতের পেঁয়াজের সরবরাহ একেবারে নেই। আগে যেখানে প্রতি মন পেঁয়াজ আমরা কিনতাম ১হাজার টাকা মন। এখন সেই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ১হাজার ৩শ টাকা থেকে ১হাজার ৬শ টাকা মন দরে কিনতে হচ্ছে। ফলে মোকামেই আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হওয়ায় সেই মোতাবেক স্থার্নীয় বাজারে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরবরাহ যদি আগের তুলনায় বাড়ে তাহলে দাম কমে আসবে বলেও দাবি এই বিক্রেতার।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর দিনাজপুরের ইনচার্জ বোরহান উদ্দিন জানান,নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা নিয়মিতভাবে আমাদের দায়ীত্বপূর্ণ এলাকায় বাজার তদারকি করে যাচ্ছি। কেউ যেন অহেতুকভাবে কোন পণ্যের মজুদ বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে না পারেন সেটি দেখা হচ্ছে। তারা কি দামে কোন পণ্য কিনছেন কি দামে বিক্রি করছেন সেটি দেখা হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।