ফেনী

কুরবানির জন্য ৯০ হাজার পশু প্রস্তুত, হাট শুরু আগামীকাল

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ফেনীতে কুরবানির জন্য ৯০ হাজার ৪শ’ ৫২টি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এবারে জেলায় চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ৯২৭টি পশু বেশি রয়েছে। ফেনীর খামারে ১০০ কেজি থেকে শুরু করে ১,২৫০ কেজির গরু রয়েছে। লাইভ ওয়েট পদ্ধতির মাধ্যমে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে খামারিরা বিক্রি করছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) পশুর হাট শুরু হবে। কোরবানির পশুরহাট কোনোভাবেই সড়ক-মহাসড়কের ওপর বসানো যাবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক।

তবে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ ঠেকাতে না পারলে স্থানীয় খামারিরা লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন।

খামারিরা জানায়, বছরের পর বছর যত্ন করে গরু পালন করে লাভের বদলে উল্টো ক্ষতির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে পশুর পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্তসময় পার করছেন ৫ হাজারের বেশি খামারি। এছাড়া অনেক মৌসুমি বিক্রেতাও খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে পশু সংগ্রহ করেছেন।

এদিকে, ১২৯ পশুর হাটের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার কোরবানির জন্য জেলার ছয় উপজেলায় গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ৫২৫টি। এরমধ্যে ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ৯২৭টি বেশি। জেলায় গরু রয়েছে ৭১ হাজার ৫৬৯টি, ছাগল ১৩ হাজার ২২৯টি, মহিষ ১ হাজার ৭৩৫টি ও ভেড়া ৩ হাজার ৯১৯টি।

গবাদিপশুর সংখ্যায় উপজেলা ভিত্তিক এগিয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা। এখানে পশুর সংখ্যা ২৪ হাজার ৩৬০টি। এরপর রয়েছে ফেনী সদর উপজেলায় গবাদিপশু রয়েছে ২২ হাজার ৪১৫টি। সোনাগাজী উপজেলায় ১৮ হাজার ৩৭৫টি। দাগনভূঞা উপজেলায় ৮ হাজার ৮৭৫টি। পরশুরাম উপজেলায় ৮ হাজার ৩৭৮টি ও ফুলগাজী উপজেলায় ৮ হাজার ৪৯টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানায়, জেলার ৬ উপজেলায় এবার স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসছে ১২৯টি হাট। এর মধ্যে ১১৪টি অস্থায়ী এবং ১৫টি স্থায়ী হাট। ফেনী সদর ও পৌরসভায় সবচেয়ে বেশি ৪২টি অস্থায়ী হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছাগলনাইয়ায় ১৫টি, ফুলগাজীতে ৭টি, পরশুরামে ৮টি, দাগনভূঞায় ১৯টি ও সোনাগাজীতে ২১টি পশুর হাট বসছে।

ছাগলনাইয়ার জাহান এগ্রোর স্বত্ত্বাধিকারী বাদল চৌধুরী বলেন, গত দুই বছর বন্যার পর এবার ভালো লাভের আশায় খামারে গরু নিয়েছি। খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে খরচও বেড়েছে। ছোট গরুর পেছনে ২০ হাজার এবং বড় গরুর পেছনে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ বেড়েছে। পশুসম্পদ অধিদপ্তর থেকে কোন সহযোগিতা পাইনি।

ছবি: প্রতিনিধি

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ফেনীতে গরু-ছাগলের খামারে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়ছে। এখানে বিনিয়োগ লাভজনক ও নিরাপদ হওয়ায় অনেক নতুন উদ্যোক্তা গবাদি পশুর খামার গড়ে তুলছেন। এছাড়া অন্য জেলার চেয়ে এখানে দুধের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালন বেশি লাভজনক।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন জানান, জেলার ৫ হাজার ৪০৭টি খামারে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতি। খামারিরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার ভালো লাভ করার আশাবাদী তারা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ৩৭টি মেডিকেল টিম খামার ও পশুর হাটের তদারকিতে রয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি ও ক্রাইম) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পশুরহাটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে ব্যাংকের সহযোগীতায় বিভিন্ন পশুরহাটে মেশিন বসানো হবে।

ফেনী বিজিবি-৪ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএম জিল্লুর রহমান জানান, অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ঠেকাতে ও কুরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধকল্পে সীমান্ত এলাকায় পাহারা জোরদার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, আসন্ন ঈদুল আযহার কোরবানির পশুরহাট কোনোভাবেই সড়ক- মহাসড়কের ওপর বসানো যাবে না। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পশু বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাজারে জাল টাকার ব্যবহার রোধকল্পে তফসিলভূক্ত ব্যাংক সমূহের সহযোগিতা নিয়ে পর্যাপ্ত মেশিন রাখা হবে।