ময়মনসিংহে শ্রমিককে হত্যার অভিযোগ!

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গৌরীপুর ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী চরশ্রীরামপুর–সাহেব কাচারী বাজার এলাকায় এগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কোম্পানির অবহেলায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৮ মে) এ ঘটনায় আবু সাঈদ (৪১) নামে এক শ্রমিক নিহত হন।

নিহত আবু সাঈদ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের বড়ইকান্দি গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি প্রায় ৮ বছর ধরে ওই কোম্পানিতে রিফারিং হেলপার পদে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা কোম্পানির সামনে বিক্ষোভ করেন এবং স্বজনরা নিহতের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর উত্তেজনা সৃষ্টি ও মব তৈরির চেষ্টা হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অন্যদিকে সাংবাদিকরা জানান, তারা একাধিকবার কোম্পানির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলেও নিরাপত্তাকর্মীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধের কথা জানিয়ে প্রবেশ করতে দেয়নি।

নিরাপত্তাকর্মীরা দাবি করেন, দেয়াল ধসে পড়ে আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের ছেলে, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান মিজান অভিযোগ করে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেয়ালের পাশেই কাজ করতে গিয়ে তার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। তার দাবি, ওই স্থানটি আগেই বিপজ্জনক ছিল এবং কোম্পানির অব্যবস্থাপনা ও অবহেলাই মৃত্যুর কারণ।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের কথা বলা হলেও অতীতেও কোম্পানিটি একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়নি।

নিহতের বাবা আব্দুল আজিজ বলেন, আমার ছেলেটাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল। এখন পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কোম্পানির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন। অতীতেও দুর্ঘটনায় শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে এগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং নিহত শ্রমিকের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।