জননিরাপত্তা রক্ষায় একটি এলিট ফোর্স লাগবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একটা অ্যাডহক ভিত্তিতে র্যাব পরিচালিত হচ্ছে এটি ঠিক নয়। এখন র্যাবের জন্য আলাদা আইন করা হচ্ছে। আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে নতুন আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যে আইনের অধীনে একটি এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী থাকবে। নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। র্যাবকে কখনো রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হবে না।
গতকাল সোমবার দুপুরে র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যাব সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির ও র্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা র্যাবের নাম পরিবর্তন করব কি না বা অন্য নতুন এলিট ফোর্স আমরা রেইজ করব কি না, সেটি এখনো চিন্তাভাবনার বিষয় সরকার বিবেচনা করছে। তবে সব ফোর্সের ক্ষেত্রেই আমরা জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করব।
র্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে আমেরিকা একটি স্যাংশন দিয়েছে। তো সেই স্যাংশন উইথড্র করতে আপনাদের কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি র্যাবের কিছু কর্মকর্তার কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না বিগত পতিত শাসনামলে যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান হিসেবে। কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড পুরো প্রতিষ্ঠান দায়-দায়িত্ব নিতে পারে না। আমরা এখন সেই প্রতিষ্ঠানের আইনে সেসব অফিসারের অ্যাকাউন্টেবল করার জন্য এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসতে অলরেডি অনুশাসন দিয়েছি। যদি কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী বিপথগ্রস্ত হয় বা বিপথে যায়, তারা পার্সোনালি দায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান দায়ী না। আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি। ঠিক আমেরিকা যে সময় র্যাবের ওপর স্যাংশন দিয়েছিল, সেই সময় র্যাব এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে। সেই কারণে র্যাবের ওপর যে স্যাংশনটা আমেরিকা ইমপোজ করেছে, সেটি এখনো বহাল। কিন্তু আমরা যদি এলিট ফোর্স হিসেবে একটা নতুন ফোর্স রিনেম করি বা রেইজ করি, সেখানে হয়তো তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আশ করা যায় যে, এখন অনেক কিছু বাকি আছে। দেখা যাক।’
রাজনৈতিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিন মাস হয়েছে। র্যাব কি রাজনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে? পুলিশ ব্যবহৃত হয়েছে? অন্য কোনো বাহিনী ব্যবহৃত হয়েছে? পলিটিক্যাল উদ্দেশ্যে হয়েছে? সুতরাং মর্নিং শোজ দ্য ডে।