আগামী পাঁচ বছরে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পাঁচ লাখ শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দেবে সরকার। এ লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে সরকারের তিন মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শূন্য পদের তথ্য এবং নিয়োগের সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২১১টি যানবাহন ফুয়েল পাস সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে এবং ২২৩টি ফিলিং স্টেশন এ কার্যক্রমের আওতায় এসেছে।
তিনি জানান, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারীর সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ২০২৯ সালে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগামী মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।
সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ অনুমোদনের পর চলতি মাসেই অফশোর বিডিং রাউন্ড ঘোষণা করা হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে ৪৯৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১০টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৫২ দশমিক ৯২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে এ খাতে ২০ হাজার ৮৩৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের আওতায় ছয় হাজার ৯২৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তিন হাজার ৪১২টি মাদ্রাসাসহ মোট ১০ হাজার ৩৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার ৬৮০টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
এ ছাড়া দেশের ১৫টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হয়েছে এবং ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্লোবাল লাইব্রেরি কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নতুন করে ভর্তি ফি দিতে হবে না। লটারির পরিবর্তে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ভর্তি পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ করা হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।