দুই দশকের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল

দীর্ঘ ২২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা, একের পর এক হৃদয়ভঙ্গ আর শেষ মুহূর্তের স্বপ্নভঙ্গের গল্প পেছনে ফেলে অবশেষে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি পুনরুদ্ধার করল আর্সেনাল। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বোর্নমাউথের ড্রয়ে গাণিতিকভাবে নিশ্চিত হয়ে গেছে মিকেল আর্তেতার দলের লিগ জয়। এর ফলে ২০০৪ সালের পর এই প্রথম এবং ক্লাবের ইতিহাসে ১৪তম বারের মতো শীর্ষ স্তরের লিগ শিরোপা ঘরে তুলল উত্তর লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি।

ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুলের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ সফল ক্লাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল গানার্সরা।

যেভাবে নিশ্চিত হলো শিরোপা

লিগের মাত্র এক ম্যাচ বাকি থাকতেই শিরোপা উৎসব শুরু হয়ে গেছে এমিরেটস স্টেডিয়ামে। গত রাতে বোর্নমাউথের বিপক্ষে পয়েন্ট হারায় পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। এই ড্রয়ের ফলে টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালকে ধরে ফেলা সিটির জন্য গাণিতিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় আর্তেতার শিষ্যদের রাজমুকুট।

রানার্স-আপের বৃত্ত ভেঙে আধিপত্য

গত ২০২২/২৩ এবং ২০২৩/২৪—টানা দুই মৌসুমে সিটির পেছনে থেকে রানার্স-আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ওডগার্ড-সাকাদের। প্রতি বছরই তারা পয়েন্ট টেবিল, দলের গভীরতা আর ধারাবাহিকতা বাড়াচ্ছিল, কিন্তু ট্রফি ছোঁয়া হচ্ছিল না। তবে এই মৌসুমে আর কোনো ভুল করেনি গানার্সরা। ২০২২/২৩ মৌসুমে ২৪৮ দিন টেবিলের শীর্ষে থেকেও শেষ মুহূর্তে সিটির অভিজ্ঞতার কাছে হেরে গিয়েছিল তারা। গত মৌসুমেও লড়াই হয়েছিল একদম শেষ পর্যন্ত, কিন্তু মাত্র ২ পয়েন্টের জন্য ট্রফি হাতছাড়া হয়।

চলতি মৌসুমে আর্সেনাল কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভালো খেলেনি, বরং পুরো মৌসুমজুড়েই মাঠের দুই প্রান্তেই (আক্রমণ ও রক্ষণ) দুর্দান্ত দক্ষতা দেখিয়েছে। বিশেষ করে তাদের জমাট রক্ষণভাগ এবং ডেড-বল বা সেট-পিস থেকে গোল করার দারুণ ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য তাদের অপরাজেয় করে তুলেছিল। শীতকালীন কঠিন সূচি এবং অ্যাওয়ে ম্যাচগুলোর চাপ তারা দারুণভাবে সামাল দিয়েছে।

নতুন সাইনিং ও আর্তেতার মাস্টারক্লাস

এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে দলবদল উইন্ডোতে ক্লাব কর্তৃপক্ষের আগ্রাসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। দলের গভীরতা বাড়াতে এবার এবেরেচি এজে, মার্টিন জুবিমেন্ডি এবং ভিক্টর গাইওকেরেসের মতো তারকাদের দলে ভেড়ায় আর্সেনাল। এই নতুন ফুটবলাররা মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবদান রেখে দলের জয়ের ধারা সচল রেখেছেন।

ম্যানেজার মিকেল আর্তেতার জন্য এই শিরোপা যেন এক দীর্ঘ ও পরিকল্পিত যাত্রার চূড়ান্ত প্রাপ্তি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, তখন আর্সেনাল প্রিমিয়ার লিগের টেবিলে ১০ নম্বরে থেকে ধুঁকছিল। ২০২০ সালেই তিনি ক্লাবকে এফএ কাপ জেতালেও লিগ শিরোপার জন্য ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও সমর্থকদের ধৈর্য ধরতে হয়েছিল। দলবদল নিয়ে সমালোচনা, পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার অভাব—সব কিছু সামলে আর্তেতা গড়ে তুলেছেন এই চ্যাম্পিয়ন দল। আর্সেন ওয়েঙ্গারের সেই ঐতিহাসিক 'ইনভিন্সিবলস' (২০০৩/০৪) মৌসুমের পর আর্তেতাই প্রথম ম্যানেজার যিনি ক্লাবকে লিগ শিরোপা এনে দিলেন। সেই সঙ্গে আর্সেনালের ইতিহাসে ষষ্ঠ ম্যানেজার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি।

ডাবল জয়ের হাতছানি

লিগ শিরোপা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ২০ বছর পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও উঠেছে আর্তেতার আর্সেনাল। আগামী ৩০ মে  পিএসজির বিপক্ষে ইউরোপা সেরা হওয়ার লড়াইয়ে নামবে তারা। ফলে এই মৌসুমে ঐতিহাসিক এক 'ডাবল' (লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) জয়ের দারুণ সুযোগ রয়েছে গানার্সদের সামনে।