কলাপাড়া

সরকারি জমি দখল করে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম গেটসংলগ্ন এলাকায় পিচঢালা সড়ক লাগোয়া মূল বেড়িবাঁধের পাশেই চলছে এ দখল কার্যক্রম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (৫৪ পোল্ডার) দখলকৃত জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উদাসীন ভূমিকা পালন করছেন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কসংলগ্ন পাউবোর সম্পত্তিতে কংক্রিটের পিলার স্থাপন করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী বাসিন্দা মো. বেল্লাল হাওলাদার। মাটির তলদেশ থেকে কংক্রিট ঢালাই দিয়ে কয়েকতলা ভবনের জন্য মজবুত পিলার নির্মাণ করা হচ্ছে।

এর অধিকাংশ পিলার বসানো হয়েছে জোয়ার-ভাটার পানিপ্রবাহের স্তরের মধ্যেই। ফলে এ দখল কার্যক্রমে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, পানি উন্নয়ন বিভাগের সরকারি জমিতে এ বহুতল ভবন নির্মিত হলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও কয়েকগুণ বাড়বে।

স্থানীয়দের দাবি, দখলদারদের এখনই ঠেকানো না গেলে মাসুয়াখালী মূল বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা সরকারি জমি দখলের মহোৎসবে পরিণত হবে। ইতোমধ্যে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সেখানে স্থাপনা নির্মাণের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেল্লাল হাওলাদারের বাবা শাহীন হাওলাদার বলেন, ‘এই স্থাপনা যদি কেউ ভাঙতে আসে, তাহলে এখানের সব ভাঙতে হবে। এত সহজ না ভাঙা। লাখ লাখ টাকা খরচ করে দালান করা হচ্ছে, এটা কি ভাঙবে? আপনারা সাংবাদিকেরা বসেন, কথা বলি। আমার ছেলে আসলে আপনাদের সঙ্গে বসিয়ে দেব।’

এ বিষয়ে দখলকারী বেল্লাল হাওলাদারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার তথ্য নিয়ে আপনি কী করবেন? আপনার সঙ্গে কথা বলার লোক আছে।’ পরে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ-আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘ওখানে রাজস্ব সার্ভেয়ার রিয়াজ গিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি আমার জানা নেই। আমি এখন ঢাকায় অবস্থান করছি। কলাপাড়ায় ফিরে নিয়মিত মামলা দায়েরের পর উচ্ছেদের চিঠি দেওয়া হবে।’