এনএসইউতে ইউনান একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেস প্রতিনিধি দলের সফর

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের (এসআইপিজি) চায়না-সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর সোশিও-কালচারাল স্টাডিজ (সিএসসিএসএস) বুধবার (২০ মে) চীনের ইউনান একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের (YASS) একটি প্রতিনিধি দলকে এনএসইউতে স্বাগত জানায়। 

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইউনান একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ইয়াং ঝেংকুয়ান। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ, YASS-এর পরিচালক অধ্যাপক গুও না, ইনস্টিটিউট ফর ইন্ডিয়ান স্টাডিজ, YASS-এর পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক লিন ইয়ানমিং এবং ইনস্টিটিউট ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ, YASS-এর সহযোগী অধ্যাপক গুও সুইয়ান। 

সফরের শুরুতে প্রতিনিধি দল এনএসইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে এসআইপিজি কনফারেন্স রুমে YASS এবং CSCSS, SIPG, NSU-এর মধ্যে একাডেমিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। 

আলোচনায় অধ্যাপক ইয়াং ঝেংকুয়ান YASS ও NSU-এর মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়-পর্যায়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেন, যাতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করা যায়। তিনি যৌথ গবেষণা, তরুণ গবেষক প্রশিক্ষণ, বাংলাদেশে মাঠভিত্তিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন, রাজনীতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতিগত বিষয় নিয়ে একাডেমিক কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, YASS-এর গবেষণা আগ্রহ শুধু নির্দিষ্ট কোনো দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত মহাসাগরের মতো বৃহত্তর কৌশলগত অঞ্চলেও বিস্তৃত, যেখানে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান ধারণ করে।

অধ্যাপক শেখ তৌফিক এম. হক, পরিচালক, এসআইপিজি ও সিএসসিএসএস, এনএসইউ, সিএসসিএসএস-এর ইতিহাস, চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে এর একাডেমিক সম্পৃক্ততা এবং বিসিআইএম অঞ্চল নিয়ে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ভারত মহাসাগরকে ভবিষ্যৎ গবেষণার একটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং চীন–দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্ক, বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে যৌথ সেমিনার, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেন। 

ড. এস. এম. রুবাইয়াত, সিএসসিএসএস-এর কো-অর্ডিনেটর ও এনএসইউর সহকারী অধ্যাপক, প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান এবং চীন–দক্ষিণ এশিয়া জ্ঞানবিনিময়, সমাজ-সাংস্কৃতিক গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সিএসসিএসএস-এর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, চীন এবং বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে একাডেমিক সংলাপ ও নীতিনির্ভর গবেষণার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সিএসসিএসএস কাজ করতে চায়।
অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, এসআইপিজি, ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য বঙ্গোপসাগরভিত্তিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বিষয়কে অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য, ধারণা ও কৌশলগত পরিবর্তন, বিশেষ করে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমা এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে উপলব্ধি করা হয়—এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ গবেষণার প্রস্তাব দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, YASS এর মাধ্যমে ইউনানে একাডেমিক সফর সহজ করা সম্ভব হলে আগাম সমন্বয়ের মাধ্যমে ভিজিটিং স্কলাররা পরবর্তীতে বক্তৃতা ও মতবিনিময় সেশনে অংশ নিতে পারেন।

অধ্যাপক বুলবুল আশরাফ সিদ্দিকী, পরিচালক, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, এনএসইউ, তরুণ গবেষক বিনিময়, নমনীয় স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বাংলাদেশি ও চীনা গণমাধ্যমে যৌথ প্রবন্ধ প্রকাশের প্রস্তাব দেন। তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সমসাময়িক বিষয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরের প্রভাব বিশ্লেষণের জন্য ওয়েবিনার ও নীতি-সংলাপ আয়োজনেরও পরামর্শ দেন।

অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বড় ধরনের যৌথ কার্যক্রম শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যৌথ বহিঃঅর্থায়ন, স্বল্পমেয়াদি ফেলোশিপ এবং যৌথ গবেষণা দুই প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের জন্য বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ড. রিজওয়ান খায়ের চীনের শাসনব্যবস্থা এবং আমলাতন্ত্র, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা থেকে শেখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের জ্ঞান জননীতি পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক পূর্বাভাস এবং বাংলাদেশ–চীন সম্পর্কের কৌশলগত বোঝাপড়া জোরদারে সহায়ক হতে পারে। 

আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়-পর্যায়ের সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা, তরুণ গবেষক প্রশিক্ষণ, স্বল্পমেয়াদি ফেলোশিপ, মাঠভিত্তিক গবেষণা, একাডেমিক সফর, নীতি-সংলাপ এবং জ্ঞানবিনিময়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। এই সফর YASS এবং CSCSS, SIPG, NSU-এর মধ্যে বাংলাদেশ-চীন একাডেমিক সহযোগিতা, আন্তঃসীমান্ত গবেষণা এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগ জোরদারের যৌথ অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে।