গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীপুর পৌরশহরের কেওয়া পশ্চিমখণ্ড বহেরারচালা এলাকার মিতালী গ্রুপের কেএসএস নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১১ দিনের ছুটি, চলতি মে মাসের পূর্ণ বেতন, ওভারটাইম বিল পরিশোধ এবং কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছিলেন শ্রমিকরা।
বুধবার কারখানা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে শ্রমিকরা কাজে ফিরলেও রাত ১২টার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ টানানো হয়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে কারখানার ফটকে ঝোলানো বন্ধের নোটিশ দেখে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তারা কারখানায় প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে ভাঙচুরেরও চেষ্টা চালান। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
পরে উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এর জেরে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিক আরিফ হোসেন জয় জানান, তারা মে মাসের পুরো বেতন ও ১১দিনের ছুটিসহ বিভিন্ন দাবি তুলেন। কর্তৃপক্ষ ১১দিনের দাবি মেনে নেন। পরে তাদের শুক্রবার পুর্নদিবস কাজ করে দিতে দাবি করে কর্তৃপক্ষ। এতে শ্রমিকরা রাজি হন। কিন্তু সকালে কারখানার সামনে এসে দেখেন সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তারা কারখানার ভেতর যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়।
আরেক শ্রমিক নাজমা আক্তার শীলা জানান, সব ঠিক ঠাক ছিল। সকালে অফিসে এসে পরিস্থিতি অন্য রকম দেখে সবাই। তিনি বলেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তার অপসারণ করার দাবি ছিল শ্রকিদের। কর্তৃপক্ষ নানা আশ্বাস দিয়ে পরে তা মানতে ছলচাতুরির আশ্রয় নেয়। এতে শ্রমিকরা আরও ক্ষুব্দ হয়। পুলিশের লাঠিপেটায় অনেক শ্রমিক আহত হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদ সামনে শ্রমিকদের সাথে এমন আচরণ করা অন্যায় হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, বুধবার রাত ১২টায় কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ করে দেয়। এ খবর পেয়ে সকালে কারখানা ভাঙচুর করতে যায় শ্রমিকরা। তিনি বলেন, তাদের সাথে শান্ত ভাবে কথা বলার চেষ্টা করেও পারা যায়নি। শ্রমিকরা উত্তেজিত ও মারমুখি হয়ে উঠে।
এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এক সময় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেট নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। তবে এতে কেউ আহত হয়নি। কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশে মোতায়েন করা আছে।