'হয়ে যাবে', সাঙ্গাকারাকে অভয় দিয়ে কাজটা করেও ফেললেন সূর্যবংশী

বয়স মাত্র ১৫ বছর, কিন্তু মাঠের ভেতরে ও বাইরে এই তরুণ ক্রিকেটারের পরিপক্বতা যেন তাঁর বয়সকেও হার মানিয়েছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি মরশুমে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলা তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী তাঁর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি শান্ত ও পরিণত মানসিকতা দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষের ম্যাচে এক বিশাল রান তাড়া করার আগে রাজস্থান দলের প্রধান কোচ কুমার সাঙ্গাকারা যখন চরম মানসিক চাপে ছিলেন, তখন তিনি নিজেই এগিয়ে গিয়ে কোচের দুশ্চিন্তা দূর করেছিলেন।

গত ১৯ মে জয়পুরের সোয়াই মানসিংহ স্টেডিয়ামে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের মুখোমুখি হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে লক্ষ্ণৌ ৫ উইকেটে ২২০ রানের পাহাড়সম পুঁজি দাঁড় করায়।

টানা তিনটি ম্যাচে হেরে প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য তীব্র চাপে ছিল রাজস্থান রয়্যালস। প্রতিপক্ষ ২২০ রান তোলার পর ইনিংসের বিরতিতে রাজস্থানের ড্রেসিংরুমে এক থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে বৈভব সূর্যবংশী বলেন:

"আসলে আমরা শেষ তিনটি ম্যাচে ভালো করতে পারিনি। আমি কোচ সাঙ্গাকারাকে দেখছিলাম, তিনি ভীষণ চাপের মধ্যে ছিলেন। প্রতিপক্ষ ২২০ রান করার পর যখন আমি প্যাড পরছিলাম, তখন কোচের মুখ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল তিনি কতটা টেনশন করছেন।"

"কিন্তু নিজের খেলার ওপর আমার পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ছিল। তাই আমি নিজেই কোচের কাছে এগিয়ে যাই এবং বলি—'হয়ে যাবে, দুশ্চিন্তা করবেন না। এই উইকেটের আচরণ অনুযায়ী এটি মোটেও খুব বড় বা তাড়া না করার মতো স্কোর নয়।'"

কোচকে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি শুধু মুখের কথাই ছিল না, মাঠে নেমে সেটি অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করেন এই কিশোর বিস্ময়। লক্ষ্ণৌর বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ৩৮ বলে ৯৩ রানের একটি বিধ্বংসী ও অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন সূর্যবংশী। তাঁর এই টর্নেডো ইনিংসটি সাজানো ছিল ৭টি চার এবং ১০টি বিশাল ছক্কা দিয়ে।

এই অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে রাজস্থান রয়্যালস ৭ উইকেটের বড় জয় পায় এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার ৫ বল বাকি থাকতেই ২২১ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায়। চাপের মুখে ১৫ বছর বয়সী এক তরুণের এমন দায়িত্বশীলতা এবং পারফরম্যান্সে হতবাক ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।