বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে অতীতে যেমন নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার হয়নি, রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারও হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীর সংস্থার মহানগর দক্ষিণের সভানেত্রী মারুফা তাবাসসুম। তিনি বলেছেন, শরিয়া আইন অনুযায়ী বিচার করলেই জাতি সুবিচার পাবে।
শুক্রবার (২২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি।
শিশু রামিসার নৃশংস হত্যাকাণ্ড, অব্যাহত নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রী সংস্থার নেত্রীরা বলেন, ডক্টর ইউনুস এর আমলে মাগুরার আছিয়া হত্যাকাণ্ডের আজও বিচার হয়নি। এজন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
মানববন্ধন থেকে শিশু রামিসার ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং অব্যাহত নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে- রামিসা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করে, দ্রুততম সময়ে ধর্ষক ও খুনীর সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করতে হবে৷ অন্যান্য সকল নারী ও শিশু সহিংসতার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি মামলার অগ্রগতি নিয়মিত পেশ করতে হবে। নারী ও শিশু সহিংসতার মামলা সংক্রান্ত কাজে প্রশাসনের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তার গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
নারী ও শিশু সহিংসতা প্রতিরোধে ইসলামী ছাত্রীসংস্থার প্রস্তাব: সামাজিক অবক্ষয় রোধে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ন্ত্রণ ও সমস্ত অশ্লীল সাইট বন্ধ করতে হবে। ছোট বড় সকলের জন্যই নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরণের প্রতিষ্ঠানেই সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং নারী ও শিশুর প্রতি যে কোন সহিংসতায় জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সুখীমন খাতুন, মেডিবোন ও ইংলিশ মিডিয়াম বিভাগের ডা. খাদিজা বিনতে ইসলাম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাহিত্য সাংস্কৃতিক সম্পাদক সালসাবিলা সায়মা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রাইসা রিফাত জুইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরেরে শিক্ষা সম্পাদক ইকরা কবীর নূর প্রমুখ।