ট্রাম্প প্রশাসন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ডের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) তুলসি গ্যাবার্ড। তার স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামসের শরীরে একটি বিরল ধরনের বোন (হাড়) ক্যানসার ধরা পড়েছে। মূলত স্বামীর পাশে থাকা এবং তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেই তিনি এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে গ্যাবার্ড তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আগামী ৩০ জুন (২০২৬) তার দায়িত্বের শেষ দিন হতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পাঠানো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্রে তুলসি গ্যাবার্ড গত দেড় বছর ধরে জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ এবং তার ওপর আস্থা রাখার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সাথে পারিবারিক সংকটের কারণে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

গ্যাবার্ড লিখেছেন, তার স্বামীর ক্যানসার ধরা পড়ায় আগামী কয়েক মাস তাকে বড় ধরনের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এই কঠিন লড়াইয়ে স্বামীর পাশে থেকে তাকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া এবং সেবা করার জন্য এই মুহূর্তে তার জনসেবা থেকে সরে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

দাম্পত্য জীবনের স্মৃতি চারণ করে তিনি জানান, তাদের ১১ বছরের বিবাহিত জীবনে আব্রাহাম সবসময় তার শক্তির বড় উৎস ছিলেন। পূর্ব আফ্রিকায় সামরিক অভিযান, একাধিক রাজনৈতিক প্রচারণা এবং বর্তমানের এই দায়িত্বশীল পদ— প্রতিটি কঠিন সময়েই তার স্বামী অটলভাবে পাশে ছিলেন। তাই এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাকে একা রেখে এমন চাপপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয় বলেই তিনি মনে করেন।

জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তুলসি গ্যাবার্ড মার্কিন গোয়েন্দা কাঠামোয় বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনি প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আকার ছোট করা এবং বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি কর্মসূচি বাতিল করার মতো সাহসী পদক্ষেপ নেন, যা বছরে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের বেশি সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে।

এছাড়া সম্প্রতি তিনি প্রায় পাঁচ লাখের বেশি গোপন সরকারি নথি প্রকাশ করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এসব নথির মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ও রবার্ট এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ড এবং ট্রাম্প-রাশিয়া তদন্ত সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল ফাইল ছিল।

তিনি ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে 'ক্রসফায়ার হারিকেন' নামক তদন্তের নথিও প্রকাশ করেন। গ্যাবার্ডের দাবি, ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্সিকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

পাশাপাশি, ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে পূর্ববর্তী বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিনি প্রথমবারের মতো 'ওয়েপনাইজেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ' গঠন করেছিলেন।

সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমেও তার দেড় বছরের মেয়াদে বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার মাদক ও সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে বাধা দেয় এবং আরও ৮৫ হাজার ব্যক্তিকে নজরদারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। তবে সমস্ত অর্জনের ঊর্ধ্বে এই মুহূর্তে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিদায় নিচ্ছেন এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

সূত্র: ফক্স নিউজ