গ্রিন কার্ডের আবেদনে নতুন শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসা নিয়ে প্রবেশ করা বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের (গ্রিন কার্ড) আবেদন করতে হলে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিদ্যমান বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত শুক্রবার এই নতুন নীতি ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রিন কার্ডের আবেদনগুলো যেন অভিবাসনের সাধারণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করাই এ নীতির উদ্দেশ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষায় বিদ্যমান ব্যবস্থার ‘ফাঁকফোকর’ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে স্থায়ী বসবাসের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ আর দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে গত অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা একটি নিয়মের আমূল পরিবর্তন করা হলো।

ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) মুখপাত্র জ্যাক কালার এক বিবৃতিতে বলেছেন, এখন থেকে বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া, অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কোনো বিদেশি নাগরিক যদি গ্রিন কার্ড পেতে চান, তবে তাকে অবশ্যই আবেদন করার জন্য তার নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। বিদেশি নাগরিকরা যখন তাদের নিজ দেশ থেকে আবেদন করবেন, তখন স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করার পর যারা গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যায় এবং অবৈধভাবে বসবাস করে, তাদের খুঁজে বের করে বিতাড়িত করার প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে। এই ঘোষণাটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের জন্য বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সীমিত করার লক্ষ্যে বর্তমান প্রশাসনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার সবশেষ পদক্ষেপ। ইউএসসিআইএসের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়, বরং এটি কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনার বিষয়।

বর্তমানে দেশটিতে বৈধভাবে থাকা লাখ লাখ বিদেশি নাগরিক, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিয়ে করেছেন, স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসাধারী এবং শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী, তারা দেশ না ছেড়েই গ্রিন কার্ডের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। তবে নতুন নীতিমালার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যারা অ-অভিবাসী ভিসায় (বিশেষ করে শিক্ষার্থী, সাময়িক কর্মী ও পর্যটক) যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, তারা খুব অল্প সময়ের জন্য এবং নির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্যে আসেন। ইউএসসিআইএস এই পরিবর্তনকে ‘আইনের মূল উদ্দেশ্য ফিরিয়ে আনা’ এবং ‘আইনি ফাঁকফোকর’ বন্ধ করা হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী, সাময়িক কর্মী বা পর্যটন ভিসায় আসা অ-অভিবাসীরা স্বল্প সময়ের জন্য এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। আমাদের ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি যাতে তাদের সফর শেষ হলে তারা দেশ ছেড়ে চলে যান। তাদের এই সফর গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করতে পারে না।

ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে (কেস বাই কেস) মূল্যায়ন করবেন। এর অর্থ গ্রিন কার্ডের নতুন নিয়ম সবার জন্য ঢালাওভাবে কার্যকর করা হবে না। প্রত্যেক আবেদনকারীর নিজস্ব পরিস্থিতি ও কাগজপত্র একজন অভিবাসন কর্মকর্তা আলাদা ও স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখবেন। অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদন মূল্যায়নকালে কিছু বিষয় কঠোরভাবে বিবেচনা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান, অনুমতি ছাড়া চাকরি করা, জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া ও আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় দেওয়া শর্তগুলো ঠিকমতো মেনে চলেছেন কি না ইত্যাদি। তবে ইউএসসিআইএস কিছু ব্যতিক্রমের কথাও স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডুয়াল ইনটেন্ট’ বা দ্বৈত উদ্দেশ্য অনুমোদিত কিছু ভিসার ক্যাটাগরি। অর্থাৎ কিছু সাময়িক ভিসাধারীর ক্ষেত্রে আইনিভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পাশাপাশি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড খোঁজার অনুমতি রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ক্যাটাগরিগুলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।