ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ নরওয়ে এখন ‘টোটাল ডিফেন্স’ বা সর্বাত্মক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ এখন নরওয়ের জন্য আর অসম্ভব কোনো বিষয় নয়।
রাজধানী অসলোর শান্ত একটি পার্কের নিচে অবস্থিত স্ট. হানশাউগেন এয়ার রেইড শেল্টার শহরের অন্যতম বড় আশ্রয়কেন্দ্র। জরুরি পরিস্থিতিতে ভারী ধাতব দরজাবেষ্টিত এই শেল্টারে প্রায় ১,১০০ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন।
শেল্টারটির ভেতরের পরিবেশ খুব একটা আরামদায়ক নয়। ঠান্ডা বাতাস, ম্লান আলো ও সাধারণ মানের টয়লেট থাকলেও এটি মূলত বোমা হামলা এবং রাসায়নিক, জীবাণু, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক (CBRN) হুমকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
নরওয়ের সিভিল ডিফেন্স বিভাগের প্রধান ওইস্টেইন ক্নুডসেন এএফপিকে জানান, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যা ৫৬ লাখ মানুষের দেশের প্রায় অর্ধেক জনগণকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম।
তবে এসব আশ্রয়কেন্দ্রের অনেকগুলোই পুরোনো এবং সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। ক্নুডসেন বলেন, শীতল যুদ্ধের সময় নির্মিত এসব শেল্টার এখন আর্দ্র ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
ন্যাটো সদস্য নরওয়ে নতুন বড় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আবারও বাধ্যতামূলকভাবে এয়ার রেইড শেল্টার রাখার নিয়ম চালুর পরিকল্পনা করছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯৮ সালে এই নিয়ম তুলে নেওয়া হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক বাঙ্কার নির্মাণ নয়; বরং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যবহৃত ড্রোন হামলার মতো হুমকি থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার উপযোগী আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
ইউক্রেনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ক্নুডসেন বলেন, ‘আমার ইউক্রেনীয় সহকর্মীরা নিজেদের ভূখণ্ডে অস্তিত্বের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তবুও তারা তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা এবং যুদ্ধকালীন সময়ে সিভিল ডিফেন্স বাহিনী কীভাবে কাজ করে—এসব অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।