বৈদেশিক মুদ্রা

মুনাফার সুযোগ পেল এয়ারলাইনস-শিপিং কোম্পানি

দেশীয় এয়ারলাইনস ও শিপিং কোম্পানিগুলোকে তাদের কাছে থাকা অব্যবহৃত বৈদেশিক মুদ্রা জমার বিপরীতে আয়ের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের জমা রাখা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর সুদ বা মুনাফা আয় করতে পারবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার মেয়াদি আমানত (টার্ম ডিপোজিট) খোলার অনুমতি প্রদান করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর উদ্দেশ্য হলো দেশে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানোয় উৎসাহিত করা এবং শিপিং ও এয়ারলাইনসগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব বৈদেশিক মুদ্রার ফিক্সড ডিপোজিটের মেয়াদ প্রচলিত ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্ট মুদ্রার ক্ষেত্রে ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সুদ বা মুনাফার হার নির্ধারণ করা হবে।

তবে আমানত অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রায় রাখা গেলেও, এসব হিসাব থেকে অর্জিত সুদ বা মুনাফা শুধু বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করা হবে। পরিশোধের দিনকার প্রচলিত বাজার দর অনুযায়ী টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে, ১০ এপ্রিল ২০২৩ সালে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী স্থানীয় শিপিং কোম্পানি ও এয়ারলাইনসগুলোকে বিদেশে পরিচালন ব্যয় মেটাতে সক্রিয় এফসি হিসাব রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই নির্দেশনায় অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বিনিয়োগ আয় করার সুযোগ ছিল না। ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অলস পড়ে থাকত।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন উদ্যোগ বিদেশে অর্জিত আয় আরও বেশি পরিমাণে বৈধ চ্যানেলে দেশে আনার ক্ষেত্রে উৎসাহ জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের সার্কুলারে বর্ণিত অন্যান্য নির্দেশনা ও পরিচালন পদ্ধতি অপরিবর্তিত থাকবে। একই সঙ্গে, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে এই নতুন সুবিধার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের দ্রুত অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে।