‎বিশ্বকাপের ১৭ দিন আগে ইনজুরি শঙ্কায় লিওনেল মেসি

‎বিশ্বকাপ বিরতির আগে মেজর লিগ সকারের  শেষ ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিল চরম রোমাঞ্চ আর একরাশ উৎকণ্ঠা। ঘরের মাঠ 'নু স্টেডিয়ামে' ১০ গোলের এক মহানাটকীয় ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি।

কিন্তু মায়ামির এই মহাজয় ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়—লিওনেল মেসির চোট শঙ্কা! বিশ্বকাপ শুরু হতে যখন আর মাত্র ১৭ দিন বাকি, তখন মেসির মাঠ ছাড়ার দৃশ্য বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে আর্জেন্টাইন শিবিরে।

‎খেলার শুরুতেই মায়ামিকে স্তব্ধ করে দেয় ফিলাডেলফিয়া। ৮ মিনিটে মিলান ইলোস্কির জোড়া গোলে ২-০তে এগিয়ে যায় তারা ।

‎তবে শুরুর ধাক্কা সামলে মায়ামিকে ম্যাচে ফেরান অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ফিলাডেলফিয়ার রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে মেসির পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান জার্মান বার্টেরামে। ২০ মিনিটে ব্রুনো দামিয়ানির গোলে ফিলাডেলফিয়া ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি। লুইস সুয়ারেজের দুর্দান্ত এক 'মিড-সিজার্স' ভলিতে স্কোরলাইন হয় ৩-২। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে মেসির চোখধাঁধানো ড্রিবলিং ও নিখুঁত থ্রু পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে মায়ামিকে ৩-৩ সমতায় ফেরান বার্টেরামে।

‎এরপর রদ্রিগো ডি পলের দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে গোল করে মায়ামিকে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে নেন সুয়ারেজ। অবশ্য প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ফিলাডেলফিয়াকে ৪-৪ সমতায় ফেরান ইলোস্কি।

‎মেসির জাদুকরী ড্রিবলিং এবং মাঠ ত্যাগ

‎দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মেসি নিজের চিরচেনা রূপ দেখান। মাঝমাঠ থেকে গতি আর ড্রিবলিংয়ের পসরা সাজিয়ে পাঁচজন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে বক্সে ঢোকেন তিনি। তবে নিজে শট না নিয়ে বল বাড়িয়ে দেন সুয়ারেজের উদ্দেশ্যে, যা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

‎ম্যাচের মূল নাটকটি ঘটে ৭২ মিনিটে। হঠাৎ করেই বাম পায়ের পেছনের পেশিতে (হ্যামস্ট্রিং) অস্বস্তি অনুভব করেন মেসি। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নিজেই কোচ গুইলার্মো হোয়োসের কাছে বদলি চান তিনি। মাঠ ছাড়ার সময় নিজের পায়ের পেশি চেপে ধরে সরাসরি ড্রেসিংরুমের টানেলে হেঁটে যান ১০ নম্বর জার্সিধারী।।

এই অল্প সময়ের মধ্যে মেসির এই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কতখানি গুরুতর, তা জানতে এখন মেডিকেল রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

সুয়ারেজের হ্যাটট্রিক ও ডি পলের বার্থডে গিফট

‎মেসি মাঠ ছাড়লেও ইন্টার মায়ামির আক্রমণভাগ সচল ছিল। ৮০ মিনিটে বার্টেরামের পাস থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি মায়ামিকে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে নেন লুইস সুয়ারেজ। আর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (৯৩ মিনিটে) দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে মায়ামির ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন রদ্রিগো ডি পল। কাকতালীয়ভাবে, নিজের জন্মদিনের দিনই এই গোলটি করলেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।

হ্যাটট্রিক করেন লুইস সুয়ারেজ, জন্মদিনে গোল করেন ডি পলও

‎এই জয়ে ১৫ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের দ্বিতীয় স্থানে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করলো ইন্টার মায়ামি। মায়ামির পরবর্তী ম্যাচ আগামী ২২ জুলাই শিকাগো ফায়ারের বিপক্ষে।