ঈদুল আজহা

মেঘনায় ছোট ট্রলারে হাজার ঘরমুখো মানুষ, অতিরিক্ত ভাড়া ও চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঈদুল আজহা সামনে রেখে ভোলার নৌপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কাকডাকা ভোর থেকেই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে একের পর এক লঞ্চ, সি-ট্রাক ও ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার ভিড়ছে ইলিশা ঘাটে। তবে পর্যাপ্ত নিরাপদ নৌযান না থাকায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট ট্রলারে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে।

সোমবার (২৫ মে) সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আট লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ভোলার ইলিশা ঘাটে পৌঁছায়। প্রতিটি লঞ্চেই ছিল ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী। একই সময় লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাট থেকে পাঁচটি ছোট ট্রলারে কয়েক হাজার যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইলিশা ঘাটে আসেন।

ঢাকা থেকে আসা যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে পৌঁছাতে পারলেও ট্রলারে পার হওয়া যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি তীব্র গরম, গাদাগাদি ভিড় ও নদীর ঢেউয়ের মধ্যে আতঙ্ক নিয়েই যাত্রা করতে হয়েছে তাদের।

চট্টগ্রাম থেকে আসা যাত্রী মো. রাকিব জানান, ভোরে মজু চৌধুরীর ঘাটে পৌঁছে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও লঞ্চ পাননি। পরে বাধ্য হয়ে ট্রলারে উঠতে হয়েছে। ১৮০ টাকার ভাড়া ২৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। ছোট ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় নড়াচড়ারও সুযোগ ছিল না।

চরফ্যাসনগামী যাত্রী মো. ইকরাম বলেন, তিনি প্রথমে একটি লঞ্চে উঠেছিলেন। কিন্তু মাঝনদীতে ডুবোচরে আটকে গেলে পরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ট্রলারে করে ইলিশা ঘাটে আসতে হয়। নদীর ঢেউ ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পুরো পথ আতঙ্কে কাটাতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরেক যাত্রী সফিক সিকদার বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে দ্রুত বাড়ি ফিরতেই ঝুঁকি নিয়েছেন। তবে মাঝনদীতে ঢেউয়ের কবলে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই নিষিদ্ধ ট্রলারে যাত্রী পারাপার চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।  যদিও ট্রলারচালকরা দাবি করছেন, লঞ্চ সংকট ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতেই তারা যাত্রী পরিবহন করছেন।
অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহনকারী এমবি আফনান খন্দকার-২ ট্রলারের চালক মো. শাজাহান বলেন, ডুবোচরে লঞ্চ আটকে যাওয়ায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। তাদের দুর্ভোগ কমাতেই ট্রলারে যাত্রী আনা হচ্ছে। তার দাবি, নদী বর্তমানে শান্ত থাকায় ঝুঁকি কম ছিল।

অন্যদিকে ঢাকা থেকে আসা যাত্রী রিয়াজ হোসেন ও ইসমাইল হোসেনসহ অনেকেই জানান, প্রতিটি লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। তবে ঈদের সময় পরিবারের কাছে পৌঁছাতে এই ভোগান্তি মেনেই যাত্রা করছেন তারা।

বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক নির্মল কান্তি দে জানান, মেঘনায় নাব্য সংকটের কারণে মাঝনদীতে ডুবোচরে কিছু লঞ্চ আটকে পড়েছে। এতে যাত্রীদের একটি অংশ ট্রলারে করে পারাপার হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নৌযান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।