যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও উত্তেজনা নিরসনে নতুন একটি খসড়া চুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। জাপানের প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিক্কেই-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নিক্কেই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে যদি একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে তার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে পেতে রাখা সমস্ত মাইন অপসারণের কাজ শুরু করবে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পর বিশ্বের যেকোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অবাধে চলাচল করতে পারবে। পাশাপাশি, এই পথ ব্যবহারের জন্য ইরান বিদেশি জাহাজগুলোর ওপর থেকে সব ধরনের ট্রানজিট ফি বা বাড়তি কর আদায় বন্ধ রাখবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্ভাব্য এই শান্তিচুক্তি নিয়ে যখন কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড দক্ষিণ ইরানে এই নতুন হামলা পরিচালনা করে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং সমুদ্রে মাইন পাতার চেষ্টায় নিয়োজিত কিছু ইরানি নৌযানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই পদক্ষেপটি সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষার্থে’ নেওয়া হয়েছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ওই অঞ্চলে ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
একদিকে মার্কিন হামলা এবং অন্যদিকে খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনার এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে ইরান এটিও পরিষ্কার করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে খুব দ্রুত বা রাতারাতি কোনো চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার এই খসড়া পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।