বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বর্তমান বিএনপি সরকার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই আচরণ শুরু করেছে। প্রশাসন, পুলিশ ও বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তগুলো ঢাকা থেকে ‘রিমোট কন্ট্রোলে’ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা ৬টায় ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে স্থানীয় এনসিপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত ২২ মে ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে এনসিপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, বর্তমান আইনমন্ত্রীর জেলা ঝিনাইদহ হওয়া সত্ত্বেও এখানকার আইন ও আদালত একটি নির্দিষ্ট মহলের হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের আশা ছিল পুলিশ একটি নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে কাজ করবে, কিন্তু বাস্তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের শাসক দলের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জেল-জুলুম ও নির্যাতন করে অতীতে যেমন মানুষকে দমিয়ে রাখা যায়নি, এবারও যাবে না।
এনসিপির এই শীর্ষ নেতা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ যখন বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াত একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছে, তখন ভারতে বসে আওয়ামী লীগ হাসছে।’ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এমন রাজনৈতিক পরিবেশ কাম্য ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী মত দমনে বর্তমান সরকারের এই নীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গত শুক্রবারের ঘটনার বিবরণ দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের ওপর মসজিদের ভেতরে ও বাইরে নগ্ন হামলা চালানো হয়। বিগত সরকারের আমলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ যেভাবে হামলা করে উল্টো মামলা দিতো, বর্তমান ছাত্রদলও একই পথ বেছে নিয়েছে। এনসিপির মামলা নিতে পুলিশ দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা কালক্ষেপণ করলেও, ছাত্রদলের মামলা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হবে না, পুলিশ হবে দেশের জনগণের।
প্রধানমন্ত্রীর পূর্ববর্তী একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সরকার প্রধান বলেছিলেন ওনার কাছে একটি ‘প্ল্যান’ বা পরিকল্পনা আছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট যে সরকারের আসলে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। সরকার আংশিকভাবে বিভিন্ন মহলের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাস্তায় যখন সাধারণ মানুষ নেমে আসে, তখন সামরিক বা পুলিশি শক্তি দিয়েও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায় না। সরকার যদি দ্রুত নিজেদের সংশোধন না করে, তবে জনগণ বিকল্প পথ বেছে নেবে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বর থেকে এনসিপি নেতাকর্মীদের উদ্যোগে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা এবং জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ।
উল্লেখ্য, গত ২২ মে’র সহিংসতার ঘটনায় ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে রবিবার গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তবে সোমবার সকাল ১০টায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর সাড়ে ১০টায় তিনি ঝিনাইদহ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।