বিশ্বকাপের আগে নেইমারের ফিটনেস ফেরাতে ‘যুদ্ধকালীন তৎপরতা’

ফুটবল বিশ্বকাপের ব্রাজিল দলে ডাক পেয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। তবে বিশ্বকাপের মতো মেগা আসরে মাঠে নামার আগে তাঁকে শতভাগ ফিট করে তুলতে নেপথ্যে চলছে এক বিশাল ‘যুদ্ধকালীন তৎপরতা’। গত কয়েক বছর ধরে একের পর এক চোটের মুখোমুখি হওয়া এই তারকাকে পূর্ণ ফর্মে ফেরাতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে তাঁর নিজস্ব নিয়োজিত পেশাদার মেডিকেল ও ফিটনেস স্টাফরা।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ফোলহা ডি এস.পাওলো’ জানিয়েছে, নেইমারের এই নিবিড় শারীরিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের বিশ্বস্ত দুই সঙ্গী—ফিজিওথেরাপিস্ট রাফায়েল মার্টিনি এবং ফিটনেস কোচ রিকার্ডো রোসা।

মার্টিনি এবং রোসার সাথে নেইমারের প্রথম পরিচয় হয়েছিল সান্তোসে খেলার সময়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে বার্সেলোনায় থাকাকালীন ক্লাবের মেডিকেল বিভাগের সাথে নেইমারের কিছু মতবিরোধ তৈরি হলে তিনি এই দুজনকে তাঁর ব্যক্তিগত স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর থেকে বার্সেলোনা, পিএসজি, আল হিলাল এবং পুনরায় সান্তোসে ফেরার সফরসহ নেইমারের ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে এই জুটি তাঁর ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করছে।

বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাঁ হাঁটুর এসিএল  এবং মেনিস্কাস ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ইনজুরির পর, নেইমারকে মাঠে ফেরাতে এই দুই বিশেষজ্ঞের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে প্রধান। সম্প্রতি উরুর পেশির সমস্যা এবং কাফ মাসলের (পায়ের পেশি) ফোলাভাব দূর করতেও তাঁরা কাজ করছেন।

মার্চের ফিফা উইন্ডোর পর থেকে নেইমারের ওপর কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে তিনি টানা ১১টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৪টি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন। এরপর থেকেই তাঁর এই বিশেষ ফিটনেস প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।

পেশির টান উপশম এবং নতুন চোট প্রতিরোধে প্রতিদিন যেসব আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে:

মাইওফেসিয়াল রিলিজ সেশন: পেশির ক্লান্তি দূর করার বিশেষ থেরাপি।

ফ্লোটেশন ক্যাপসুল ও হাইপারবারিক চেম্বার: দ্রুত শারীরিক ক্লান্তি কাটাতে সাহায্য করে।

নিউমেটিক কম্প্রেশন বুটস: পায়ের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে ব্যবহৃত হয়।

পিআরপি থেরাপি: ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু বা পেশির দ্রুত পুনর্গঠনে প্লেটলেট-সমৃদ্ধ প্লাজমা ইনজেকশন।

বর্তমানে মেডিকেল টিমের মূল লক্ষ্য হলো নেইমারের কাফ মাসলের ফোলাভাব সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা, যেন নতুন কোনো চোট ছাড়াই তিনি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলে যেতে পারেন।