চিলির উত্তরাঞ্চলীয় আন্তোফাগাস্তায় ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ মে) বিকাল ৫টা ৫২ মিনিটে কালামা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে এই কম্পন অনুভূত হয় বলে চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সেন্টার নিশ্চিত করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
চিলির হাইড্রোগ্রাফিক অ্যান্ড ওশেনোগ্রাফিক সার্ভিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের বৈশিষ্ট্যের কারণে চিলির উপকূলরেখায় সুনামি আঘাত হানার কোনো আশঙ্কা বা হুমকি নেই। প্যাসিফিক রিং অব ফায়ারের ওপর অবস্থিত হওয়ায় চিলিতে প্রায়ই এমন ভূমিকম্প ঘটে, যা মূলত নাজকা এবং দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে হয়ে থাকে।
ঐতিহাসিকভাবে চিলি ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ এবং ১৫৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে প্রায় ১০০টি বড় ভূমিকম্প হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৩০টি ছিল ৮.০ মাত্রার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গড়ে প্রতি দশকে অন্তত একবার সেখানে ৮.০ বা তার চেয়ে বড় মাত্রার একটি প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৯৬০ সালে চিলির ভালদিভিয়া এলাকায়, যার মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫। সেই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ১০ মিটার উঁচু সুনামির ঢেউ চিলির দক্ষিণাঞ্চল ধ্বংস করে প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে জাপানেও আঘাত হানে এবং চিলিতে প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া ২০১০ সালে দেশটির মাউলে উপকূলে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি বড় ভূমিকম্প ও সুনামিতে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
তবে চিলির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৯৩৯ সালের ২৪ জানুয়ারি রাতে। ৮ দশমিক ৩ মাত্রার সেই চিলান ভূমিকম্পে পুরো শহরের অর্ধেকেরও বেশি ভবন ধসে পড়ে এবং যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সরকারি হিসাবে সেই শহরের প্রায় ২৪ হাজার মানুষ মারা যান, যদিও বেসরকারি ধারণায় এই প্রাণহানির সংখ্যা ৩০ হাজার পর্যন্ত বলা হয়ে থাকে।