কুয়াকাটায় বৃহৎ প্রকল্প নিয়ে ইস্তানবুল হোটেলের অগ্রযাত্রা

পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় বৃহৎ পরিসরের বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড। প্রায় ২১ একর জায়গাজুড়ে পরিকল্পিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনপাড়া এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের জন্য উন্নত আবাসন ব্যবস্থা, বিনোদন সুবিধা এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি একটি আধুনিক মসজিদ ও নূরানী মাদরাসা নির্মাণের উদ্যোগও রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাব-কবলা ও বায়না সূত্রে প্রায় ২১ একর জমি ক্রয় করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সীমিত আকারে প্রকল্প পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে এর পরিধি বাড়ানো হয়। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ১০ হাজার শেয়ার বিক্রি হয়েছে এবং ২৬ হাজার শেয়ার বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অর্থ ডিপিআর (ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট) প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বের ১০ একরের পরিবর্তে এখন ২১ একর জমি অধিগ্রহণের তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডিএম এমদাদুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু জমির অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে এবং ধাপে ধাপে প্রকল্প সম্প্রসারণের কাজ চলছে। কিছু জমি সরাসরি ক্রয় করা হয়েছে, আবার কিছু জমি বায়নার মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সকল কার্যক্রম আইনগত প্রক্রিয়া ও নিয়মনীতি অনুসরণ করেই পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এটি শুধু ব্যবসায়িক প্রকল্প নয়, বরং কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।

প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডমিন ডিরেক্টর হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটকদের জন্য মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

সাইট ইঞ্জিনিয়ার আল-আমিন জানান, প্রকল্পের ওয়াল বাউন্ডারির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পর্যাপ্ত নির্মাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে এবং আসন্ন ঈদুল আজহার পর মূল নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এদিকে স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, এমন বড় বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, এ ধরনের প্রকল্প স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

অন্যদিকে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা আব্দুর রহিম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের প্রকল্প বাড়লে পর্যটকদের অবস্থানের সময়ও বাড়তে পারে, যা পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল করবে।

তবে প্রকল্পের কিছু জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় বৈধ দলিল ও নথিপত্র রয়েছে এবং কোনো পক্ষের আপত্তি থাকলে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো আইনগত প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।