‘কিচেন কেবিনেট’ কী? এটা নিয়ে হঠাৎ আলোচনা কেন?

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের পর এবার সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘কিচেন কেবিনেট’ প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এরপরই বিষয়টি আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটে হতো না, বরং কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হতো। সব সরকারেরই একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকে, তবে সেখানে কারা ছিলেন তা তিনি জানেন না।

তাদের বক্তব্যের পর কিচেন কেবিনেটের বিষয়টি আলোচনায় আসে। রাজনীতি তত্ত্বে ‘কিচেন কেবিনেট’ কী? 

‘কিচেন কেবিনেট’ হলো কোনো সরকারের অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা, পরামর্শক বা নিকটজন যারা সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন কিংবা নীতি প্রনয়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা সাধারণত সরকারি কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। সরকার তাঁদের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন। সংবেদনশীল বা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের প্রধান নির্বাহী কিংবা তার সাথে নির্বাহী পরিষদের গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিবর্গ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তাঁদের সাথে আলোচনা করেন। 

কীভাবে এই শব্দটি রাজনীতিতে আসলো? 
যুক্তরাষ্ট্রের ৭ম প্রেসিডেন্ট এন্ড্রু জ্যাকসন ১৮২৯–১৮৩৭ মেয়াদে যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন এই শব্দটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। তাঁর আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার বাইরে কিছু ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি তাঁদের সাথে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিতেন। সমালোচকেরা ব্যঙ্গ করে এ গোষ্ঠীকে ‘কিচেন কেবিনেট’ নামে অভিহিত করেন। 

গণতন্ত্রে কিচেন কেবিনেটের প্রভাব
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কাঠামো হলো আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভা বা কেবিনেট। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব থাকে এবং আলোচনা–সমালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু যদি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়মিতভাবে “কিচেন কেবিনেট”-এ নেওয়া হয়, তাহলে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়ে, ভিন্নমত দমনের ঝুঁকি তৈরি হয় এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক দেশেই অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা গোষ্ঠী থাকে, যা পুরোপুরি অস্বাভাবিক নয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ’সহ বিভিন্ন দেশে এ ধরণের ব্যবস্থার উদাহরণ আছে। তবে সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অনুমোদন ও জবাবদিহিতা সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে হচ্ছে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন।