ঈদের ছুটিতেও সক্রিয় এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই মামলা

ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকার সড়ক কিছুটা ফাঁকা হয়ে গেলেও ট্রাফিক নজরদারিতে কোনো শিথিলতা নেই। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপন করা এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ক্যামেরা সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকায় ট্রাফিক আইন ভাঙলেই গুনতে হচ্ছে জরিমানা। একই সঙ্গে চালকের লাইসেন্সে যুক্ত হচ্ছে ‘ডিমেরিট’ পয়েন্ট।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত প্রায় ২০০টি ক্যামেরা দিয়ে যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব ক্যামেরা থেকে সংগ্রহ করা ভিডিও ও ছবি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হচ্ছে।

ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, জেব্রা ক্রসিং দখল, হঠাৎ লেন পরিবর্তন, অবৈধ পার্কিং এবং বাঁ লেন বন্ধ রাখার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, ফুটপাতে গাড়ি ওঠানো এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার বিষয়েও কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে।

গত ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীতে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক মনিটরিং চালু করা হয়। সফটওয়্যারের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করে তথ্য ডিএমপির সার্ভারে পাঠানো হচ্ছে। পরে যাচাই শেষে গাড়ির মালিকের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

ঈদের ছুটি উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজট কমে এসেছে। তবে ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর সুযোগ কমে গেছে এআই নজরদারির কারণে। ট্রাফিক সিগন্যাল লঙ্ঘনের প্রবণতাও কম দেখা যাচ্ছে।

পুলিশ ‘পিটিজেড’ বা ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ প্রযুক্তির উন্নত ক্যামেরা ব্যবহার করছে। এসব ক্যামেরা ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারে এবং দূর থেকে গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্তে সক্ষম। 

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ক্যামেরার মূল্য ৬০ হাজার টাকার বেশি। ড্রাইভিং লাইসেন্সে মোট ১২টি ডিমেরিট পয়েন্ট থাকে। ধারাবাহিকভাবে ট্রাফিক আইন ভাঙলে পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে এবং একপর্যায়ে লাইসেন্স বাতিলও হতে পারে।

এদিকে এআই ক্যামেরার নামে নতুন প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে। জরিমানার কথা উল্লেখ করে মোবাইলে ভুয়া এসএমএস পাঠিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে একটি চক্র। এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ডিএমপি। ট্রাফিক মামলার তথ্য শুধুমাত্র স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। এখনো মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার নোটিশ পাঠানো শুরু হয়নি। এছাড়া ০১৩২০-০৪২২০৭ ও ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর ছাড়া অন্য কোনো নম্বর থেকে পাঠানো বার্তা বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সুনিংশ সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, ঈদের ছুটিতেও এআই ক্যামেরা ও ট্রাফিক সদস্যরা সক্রিয় আছেন। আইন লঙ্ঘনের ঘটলেই নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা।