৫৬ মণ ওজনের ষাঁড় মানিককে খাওয়ানো হবে এতিমদের

টাঙ্গাইলের বিখ্যাত ও বিশাল আকৃতির ষাঁড় 'মানিক'-এর মাংস দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে হাজারো এতিম, দুস্থ ও বৃদ্ধাশ্রমের অসহায় মানুষদের। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সন্তানের মতো লালন-পালন করা ৫৬ মণ ওজনের এই সাদা-কালো ষাঁড়টি কিনে নিয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ‘আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন’। পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন মানিককে জবাই করে এর মাংস রান্না করে বিলিয়ে দেওয়া হবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাতে।

মানিককে পরম মমতায় বড় করেছিলেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ভেঙ্গুলার গ্রামের সংগ্রামী নারী খামারি হামিদা আক্তার। দুই বছর আগেই গরুটির ওজন ছিল ২ হাজার ৮০ কেজি (প্রায় ৫৬ মণ)। বিশাল এই গরুর পেছনে প্রতিদিনের খরচের জোগান দিতে দিতে একপর্যায়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল হামিদার। গত বছর ১৫ লাখ এবং চলতি বছর ১৮ লাখ টাকা দাম উঠলেও শেষ মুহূর্তে ক্রেতারা গরুটি আর কেনেননি।

২০ লাখ টাকায় বিক্রির ইচ্ছা থাকলেও বড় গরুর ক্রেতা না থাকায় এবং মানিকের খরচের বোঝা টানার সামর্থ্য না থাকায় চরম দিশেহার হয়ে পড়েছিলেন এই নারী উদ্যোক্তা। অনলাইনে হামিদার এই অসহায়ত্বের খবর দেখতে পেয়ে আশার আলো হয়ে এগিয়ে আসেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বিশিষ্ট দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদ। তিনি ১১ লাখ ২০ হাজার টাকায় গরুটি কিনে নিয়ে হামিদাকে দেন ঋণমুক্ত জীবনের পরম স্বাধীনতা।

বর্তমানে মানিককে টাঙ্গাইল থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগরের খামারে নিয়ে আসা হয়েছে। খামারের কর্মচারী রেহেনা বেগম জানান, গত সোমবার মানিককে আনার পর থেকে একটি পাকা টিনশেড ঘরে ফ্যান ছেড়ে রাজকীয় পরিবেশে রাখা হয়েছে। উন্নতমানের খাবার দিয়ে তার সর্বোচ্চ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। এদিকে বিশাল দেহের শান্ত স্বভাবের এই মানিককে একনজর দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত উৎসুক মানুষ খামারে ভিড় করছেন।

আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ আলম জানান, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য দ্বিমুখী—একদিকে যেমন একজন সংগ্রামী নারী উদ্যোক্তার স্বপ্ন পূরণ করা হয়েছে, অন্যদিকে সমাজের অবহেলিত মানুষদের ঈদের আনন্দ দেওয়া।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর বুকে পাথর চেপে রাখা যে মানুষগুলোর পাতে এক টুকরো ভালো খাবার জোটে না, সেই মলিন মুখগুলোতে তৃপ্তির হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য। তাই ঈদের তৃতীয় দিন মানিককে জবাই করে এতিম শিশু, ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষ এবং অবহেলিত বৃদ্ধাশ্রমের নিঃসঙ্গ বাসিন্দাদের উন্নতমানের মাংস রান্না করে খাওয়ানো হবে।

এই মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি এখন স্থানীয় এলাকাবাসীর মুখে মুখে প্রশংসিত হচ্ছে। খামারি হামিদার মুখে যেমন ফুটেছে স্বস্তির হাসি, তেমনই ঈদের পর এক বেলা পেট পুরে ভালো খাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে হাজারো এতিম ও দুস্থ শিশু।