সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখেই মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনা করবে সরকার

বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও দেশের মানুষের অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরবর্তীকালে দেশের স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখে এই চুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বিএনপি সরকার। 

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

সদ্য সম্পাদিত আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির এই নীতিপ্রণেতা বলেন, ‘প্রতিটি সরকারেরই নিজস্ব কিছু কৌশল বা কর্মপদ্ধতি থাকে। হয়তো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিচেন ক্যাবিনেটেরও তেমন কোনো বিশেষ কৌশল ছিল। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, তারা যে সমস্ত চুক্তি সম্পাদন করেছে, সে বিষয়ে দেশের সাধারণ মানুষ যেমন অন্ধকারে ছিল, তেমনি আমরাও আগে থেকে কিছুই জানতাম না। তারা ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কোন প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিগুলো করেছে, তা তারাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে।’

চুক্তিটি নিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করে প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল আরও জানান, ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া একটি বাণিজ্যচুক্তি তাদের হস্তগত হয়েছে এবং দলের পক্ষ থেকে সেটি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ও কাজ শুরু করা হয়েছে। 

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জনগণের অর্থনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। দেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা করেই আগামী দিনে এই চুক্তির ব্যাপারে যাবতীয় করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে, সকাল ৮টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ঈদগাহ মাঠে জেলা সদরের প্রধান ঈদের জামাত অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রধান জামাতে ইমামতি করেন শহরের ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক। নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

উক্ত প্রধান ঈদ জামাতে সর্বস্তরের সাধারণ মুসল্লিদের পাশাপাশি অংশ নেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শীর্ষনেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একই কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় এই জামাত ছাড়াও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দান ও স্থানীয় মসজিদগুলোতে প্রায় ১২০০ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বত্রই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সর্বস্তরের মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।