ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার জামাত

ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সম্পন্ন হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে মাঠ ভেজা থাকা সত্ত্বেও সকাল ৯টায় নির্দিষ্ট সময়েই এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের এই প্রধান জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নামাজ শুরুর পর দ্বিতীয় রাকাত চলাকালীন হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে মুসল্লিরা বৃষ্টিতে ভিজেই অত্যন্ত নিখাদ আবেগ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নামাজ শেষ করেন।

নামাজ শুরুর আগে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইশতিয়াক ইমন উপস্থিত থেকে মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

শোলাকিয়া মাঠের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ মেনে জামাত শুরুর আগে শটগানের গুলি ছুড়ে সংকেত দেওয়া হয়। জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে তিনটি, ৫ মিনিট আগে দুটি এবং ১ মিনিট আগে একটি গুলি ছুড়ে এই সংকেত দেওয়া হয়। প্রথা অনুযায়ী প্রথম তিনটি গুলি ছোড়েন জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

বিপুল সংখ্যক মুসল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। মাঠে ও মাঠের চারপাশে বিপুল পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি দুই প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাব, সিআইডি এবং পিবিআই মোতায়েন ছিল। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ড্রোন ও সিসি ক্যামেরা দিয়ে পুরো এলাকা নজরদারি করা হয়। পাশাপাশি ছিল ওয়াচটাওয়ার, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর এবং মেটাল ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে রেলওয়ে বিভাগ ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে সকালে দুটি 'শোলাকিয়া স্পেশাল' ট্রেনের ব্যবস্থা করে। তবে পবিত্র ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির ব্যস্ততা থাকায় ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবার মুসল্লিদের উপস্থিতি কিছুটা কম দেখা গেছে।

নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। একই সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ ও দেশের প্রয়াত জাতীয় নেতাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।