হজ উপলক্ষে প্রতিবছর লাখো মানুষের জন্য বিপুল পরিমাণ খাবার প্রস্তুত ও বিতরণ করা হয়। এ কারণে খাবারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার হজে খাবারের অপচয় কমাতে ও উদ্বৃত্ত খাবার পুনর্বিতরণে জোর দিচ্ছে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এক প্রতিবেদনে আরব নিউজ এ তথ্য জানায়।
হজসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খাবার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে। অপচয় কমানোর পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা ও পুষ্টিমান নিশ্চিত করতেও নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
দেশীয় হাজি সেবা প্রতিষ্ঠান আবদুল্লাহ আলি বিন মাহফুজ কেটারিং কোম্পানির ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আলি বিন মাহফুজ জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হজ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে হাজিদের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'খাবারের অপচয় কমাতে আমরা বিশেষভাবে কাজ করছি। খাবার সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা তদারকিতে ৩০ থেকে ৪০ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েও খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে।'তিনি আরও জানান, উদ্বৃত্ত খাবার ছোট প্যাকেটে সংগ্রহ করে অভাবী মানুষের মধ্যে বিতরণে হেফজ আল-নেমা কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কাজ করছে তাদের প্রতিষ্ঠান।
মক্কার বিভিন্ন হজ ক্যাম্প ও ক্যাটারিং সেন্টার থেকে উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ ও পুনর্বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাগুলোও। হেফজ আল-নেমা কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কর্মকর্তা হাতুন আবদুল আজিজ আল-উলাইয়ান জানান, এ বছর তারা ৩৫টি হজ ক্যাম্পের সঙ্গে কাজ করছেন। গত বছরের এই সময়ে, প্রায় ৬৪ হাজার খাবারের প্যাকেট সংগ্রহ ও বিতরণ করা হয়, যেখানে প্রায় ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেছেন।
এদিকে, রয়্যাল কমিশন ফর মক্কা সিটি অ্যান্ড হোলি সাইটসের নির্বাহী প্রতিষ্ঠান কিদানা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত খাবার দাতব্য কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ জোরদার করেছে। খাদ্য সংরক্ষণবিষয়ক একরাম অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, প্রতি হজ মৌসুমে প্রায় ৮০০ কেজি উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ ও পুনর্বিতরণ করা হয়। সংগঠনটির পরিচালক আহমেদ আল-মাত্রাফি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে খাবারের অপচয় বেশি হয় এমন স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে কাজ করা হচ্ছে।
উদ্ধার করা খাবারের মধ্যে থাকে গরম খাবার, ফল, সবজি, হিমায়িত খাদ্য, পানীয়, বেকারি পণ্য, মিষ্টি ও মাংসজাত খাবার। এগুলো মক্কার বিভিন্ন দরিদ্র পরিবার ও অভাবী মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। হজে খাবারের অপচয় কমানোকে এখন পুরো খাতের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আল-রুকুন সার্ভিসেসের নির্বাহী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাঈদ। তিনি বলেন, 'ইসলামে খাবারের অপচয়কে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তাই পরিকল্পিত খাবার প্রস্তুতির মাধ্যমে অপচয় কমানো খুবই জরুরি।
এছাড়া, ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট খাবার ও জৈব বর্জ্য সংগ্রহ করে তা পুনর্ব্যবহার ও কম্পোস্টিংয়ের মাধ্যমে সারসহ বিভিন্ন উপযোগী পণ্যে রূপান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আরও পরিচ্ছন্ন ও টেকসই হজ পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।