মোবাইল আর ভার্চুয়াল দুনিয়ার আসক্তি থেকে শিশুকিশোরদের বইমুখী করতে টাঙ্গাইলের সখীপুরে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে একটি গ্রামীণ পাঠাগার। শিশুদের হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দিয়ে যেন ছোট্ট এক বই উৎসবের জন্ম দিল স্থানীয় সেকান্দর আলী পাঠাগার। বই পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে গ্রামের শিশুকিশোররা।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে সখীপুর উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়া গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশে দেখা যায় ভিন্ন এক চিত্র। সকাল থেকেই পাঠাগার প্রাঙ্গণে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ বই দেখতে, কেউ শিশুদের আনন্দ ভাগ করে নিতে, আবার কেউ জানতে এসেছেন গ্রামের ভেতরে গড়ে ওঠা ব্যতিক্রমী এই পাঠাগারের গল্প।
স্থানীয়দের মতে, অজপাড়া গাঁয়ের ভেতরে এমন একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা হওয়ায় এলাকায় তৈরি হয়েছে নতুন সাংস্কৃতিক পরিবেশ। শিশুকিশোরদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন।
পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাতা লেখক ও সাংবাদিক শাহআলম সাজু। বইপ্রেমী মানুষের সহযোগিতায় ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন পাঠাগারটি। বর্তমানে এখানে প্রায় তিন হাজার বই রয়েছে। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, মুক্তিযুদ্ধ, শিশুতোষ সাহিত্যসহ নানা ধরনের বই প্রতিদিন পাঠকদের আকর্ষণ করছে।
শাহআলম সাজু জানান, গ্রামের তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনতেই তার এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী পাঠক পাঠাগারে এসে বই পড়ছেন। শিশুদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করছে।
বই বিতরণ কার্যক্রম দেখতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সিকদার মোহাম্মদ সবুর রেজা। তিনি শিশু-কিশোরদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি পাঠাগার শুধু বই পড়ার জায়গা নয়, এটি মানুষ গড়ার কারখানা। গ্রামের শিশুরা যদি বইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তারা ভবিষ্যতে মানবিক ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
বই নিতে আসা কিশোর সোহেল ও কিশোরী লিজা জানায়, পাঠাগার থেকে বই উপহার পেয়ে তারা খুব আনন্দিত। স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি এখন নিয়মিত গল্প-উপন্যাস পড়ার ইচ্ছা তাদের।
দিনশেষে শিশুদের হাতে বই তুলে দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা শাহআলম সাজু। তিনি বলেন, শিশুদের মুখের হাসিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। স্বপ্ন দেখি, একদিন এই গ্রামের প্রতিটি শিশু বইকে বন্ধু বানাবে।