রাজধানীতে এখনও পড়ে আছে কোরবানির বর্জ্য

কোরবানির পশুর বর্জ্য ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন। ঈদের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এখনও পড়ে থাকতে দেখা গেছে কোরবানির পশুর বর্জ্য। প্রধান সড়কগুলো তুলনামূলক পরিষ্কার থাকলেও অলিগলি ও আবাসিক এলাকার অনেক স্থানে জমে থাকা বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জায়গাতেই কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্টাংশ অপসারণ করা হয়নি। কোথাও বর্জ্যের স্তূপ, কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পশুর নাড়িভুঁড়ি, খুর, শিং, চামড়ার অংশ ও রক্তাক্ত বর্জ্য। আজকেও রাজধানীতে পশু কোরবানি করছেন অনেকে।

ঈদের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম ঘোষণা দিয়েছিলেন, কাজ শুরুর ৮ ঘণ্টার মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ করা হবে। অন্যদিকে, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছিলেন, সরকার নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার আগেই কাজ শেষ করা হবে।

তবে বাস্তবে শুক্রবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বসানো অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর অনেক স্থানেও এখনও বর্জ্য পুরোপুরি সরানো হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, রোকেয়া সরণির পীরেরবাগ সড়ক, তেজতুরিবাজার, সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা, মিরপুর-১০ গোলচত্বরের সেন্ট্রাল প্লাজার সামনে, পূর্ব মণিপুর, শাহজাদপুর লেকভিউ সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য পড়ে রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি ছিল আরও খারাপ। জিগাতলা, হাজারীবাগের মনেশ্বর রোড, গণকটুলী সিটি কলোনি, বিজিবি ১ নম্বর গেটসংলগ্ন বনলতা কাঁচাবাজার, চকবাজারের নূর ফাতাহ লেন, বকশীবাজারের অরফানেজ রোড, আগা সাদেক রোড ও নাজিরাবাজারের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব স্থান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে।

পূর্ব রামপুরার প্রায় প্রতিটি বাসার সামনেই দেখা গেছে রক্তমাখা মাটি, নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান্য বর্জ্য। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সফলভাবে চলছে। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি ওয়ার্ড শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে এবং বাকি চারটি ওয়ার্ড ৮, ১১, ১৮ ও ৫৩ নম্বরে প্রায় ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ঈদুল আজহার প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও কোরবানির পশুর বর্জ্য এবং অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম অত্যন্ত জোরদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ঈদের দ্বিতীয় দিনে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৭৬ টন। ঈদের দিন (২৮ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮১৪ টন কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে চূড়ান্তভাবে ডাম্প করা হয়েছে।