এলিমিনেটর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ২৯ বলে ৯৭ রানের টর্নেডো ইনিংসের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালালেন রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী। তবে কোয়ালিফায়ার ২-এর মঞ্চে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিসের হতাশায় পুড়তে হলো তাকে।
মুল্লানপুরের মহারণে ৪৭ বলে ৯৬ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ওপেনার। বৈভবের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে প্রথমে ব্যাট করা রাজস্থান রয়্যালস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১৪ রানের বিশাল পুঁজি দাঁড় করায়।
১০০০ রানের নতুন ইতিহাস ও ব্যাটিংয়ের 'দ্বিতীয় গিয়ার'
এতদিন বৈভব সূর্যবংশীকে শুধু 'স্ল্যাম-ব্যাং' বা শুরু থেকেই মারকুটে ব্যাটার হিসেবে চেনা গেলেও, গুজরাটের বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের সামনে আজ তিনি ব্যাটিংয়ের ভিন্ন এক রূপ দেখান। মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিধ কৃষ্ণা, কাগিসো রাবাদা ও জেসন হোল্ডারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিরুদ্ধে শুরুতে কিছুটা সময় নেন তিনি। ৩১ বলে খেলেন তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ারের ধীরগতির হাফ-সেঞ্চুরি। তবে ফিফটি ছোঁয়ার পরেই রুদ্ররূপ ধারণ করেন এই কিশোর; পরের মাত্র ১৬ বলে তুলেন আরও ৪৫ রান! তাঁর ৪৭ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৮টি চার ও ৭টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কায়।
এই ইনিংসের পথেই আইপিএল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ এবং দ্রুততম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার রেকর্ড গড়েন বৈভব। মাত্র ২৩ ইনিংসে এই কীর্তি গড়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন সাই সুদর্শনকে (২৫ ইনিংস)। বল খেলার দিক থেকেও তিনি দ্রুততম, মাত্র ৪৪০টি বল খেলে ১০০০ রান পূর্ণ করেছেন তিনি।
দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় পরাগ জোরে 'হেডস' ডাকেন এবং কয়েনটি হেডসই পড়ে। টসে জিতে রিয়ান পরাগ প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমবার টস জিতেও রেফারির ভুলে সুবিধা হাতছাড়া হওয়ায় গুজরাট অধিনায়ক শুভমন গিলকে মাঠে বেশ ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট দেখায়। উল্লেখ্য, ঠিক ১৫ বছর আগে ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচেও ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের দর্শক গর্জনের কারণে একইভাবে দুবার টস করতে হয়েছিল।
বৈভবের দুর্বলতা খুঁজে পেলেন গাভাস্কার
এলিমিনেটরে ৯৭ এবং আজ কোয়ালিফায়ার ২-এ ৯৬ রানে বৈভবের আউট হওয়া নিয়ে ধারাভাষ্য বক্সে নিজের মতামত দিয়েছেন ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার। তিনি মনে করেন, নার্ভাস নাইনটিজে (৯০-এর ঘরে) পৌঁছানোর পর বৈভবের একটি সুনির্দিষ্ট দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে, যা এখন প্রতিপক্ষ বোলাররা লুফে নেবে।
গাভাস্কার অন-এয়ার বলেন, 'সব বোলাররাই হয়তো এখন বলবে, 'আমরা ওর একটা দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছি'। ও যখন ৯০-এর ঘরে থাকবে, তখন ওকে শর্ট বল করো। এর আগে এই ট্রিক কাজ করবে না। ও ৯০-এ পৌঁছালেই শর্ট বল ছুঁড়ে ডিপ থার্ড ম্যানে ফিল্ডার রেখে দাও, ও ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যাবে।'
আজকেও শর্ট বলে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়েই সাজঘরে ফেরেন বৈভব।
সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান নিয়ে আইপিএল ২০২৬-এর অরেঞ্জ ক্যাপের তালিকায় নিজের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করলেন বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থানের ২১৪ রানের ইনিংসে বৈভবের পাশাপাশি রবীন্দ্র জাদেজা (৪৫*) এবং ডোনোভান ফেরেরা (৩৮*) গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।