টানা বৃষ্টি এবং ঈদুল আজহার ছুটিজনিত কারণে রাজধানী ঢাকার বায়ুমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়া, নির্মাণকাজ আংশিকভাবে বন্ধ থাকা এবং বৃষ্টিতে ধুলাবালি ধুয়ে যাওয়ার ফলে নগরীর বাতাস আগের তুলনায় অনেকটাই সহনীয় অবস্থায় রয়েছে। যদিও গত দুই দিনে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দূষণের মাত্রা কিছুটা বেড়েছে, তবুও সামগ্রিকভাবে ঢাকার বায়ুমান এখন মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) সকাল ৭টা ৪৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ছিল ৮২। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের ১২৭টি প্রধান শহরের মধ্যে রাজধানী ঢাকা ১৯তম অবস্থানে রয়েছে। পরিবেশগত মানদণ্ডে এ অবস্থাকে ‘মাঝারি’ বা সহনীয় বায়ুমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আজকের বৈশ্বিক তালিকায় ২১৭ স্কোর নিয়ে বায়ুদূষণে শীর্ষ স্থানে রয়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, যার বায়ুমান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসার স্কোর ১৮৯। এছাড়া ১৫০ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে চিলির সান্তিয়াগো এবং ১৪৫ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা ১৪২ স্কোর নিয়ে রয়েছে পঞ্চম স্থানে।
আইকিউএয়ারের একিউআই সূচক অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে স্কোর থাকলে বায়ুর মান ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, একিউআই ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের কারণে বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর কণা ও ধুলাবালি ধুয়ে যায়, ফলে ঢাকার বায়ুমানে স্বাভাবিকভাবেই উন্নতি দেখা যায়। বিপরীতে শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং বাতাসের স্থবিরতার কারণে দূষিত কণাগুলো নিচের স্তরে আটকে থাকে। ফলে ওই সময়ে ঢাকা প্রায়ই বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকার শীর্ষ দিকে অবস্থান করে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের ছুটি ও সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট এই স্বস্তিকর পরিস্থিতি স্থায়ী নয়। নগরীর স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ও নির্মাণকাজ পুরোপুরি শুরু হলে বায়ুদূষণের মাত্রা আবারও বাড়তে পারে।