যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরে যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা ডায়ালগে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধসহ যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এশিয়ায় নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিও অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, 'আমরা এশিয়ায় আমাদের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছি না। একই সঙ্গে আমরা আমাদের বৈশ্বিক দায়িত্বও পালন করছি—যাতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।'
হেগসেথ এ সময় এশিয়ার মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং জিডিপির অন্তত ৩.৫ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিকে 'উদ্বেগজনক' হিসেবে উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অযথা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না এবং 'পরিমিত ও পরিকল্পিত শক্তির মাধ্যমে' আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশল হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তি প্রদর্শন করা এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা।
তাইওয়ানের জন্য একটি বড় অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ স্থগিত করার বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদ ও উৎপাদন সক্ষমতা 'খুবই শক্ত অবস্থানে' রয়েছে এবং এ দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা একসঙ্গে দুইটি কাজ করতে পারি, একদিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে এশিয়ার মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা।'
বক্তব্যে তিনি প্রচলিত কূটনৈতিক ভাষার পরিবর্তে 'শক্তি প্রদর্শনের বাস্তব সক্ষমতা'র ওপর জোর দেন। তার ভাষায়, 'কেবল নিয়ম দিয়ে কিছু হবে না, যদি তার পেছনে সামরিক শক্তি না থাকে।'
শাংরি-লা ফোরামে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো, বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন—মার্কিন প্রতিশ্রুতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে হেগসেথ তা নাকচ করেন।
ফোরামটি সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সরাসরি নিরাপত্তা আলোচনার প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হলেও এ বছরও চীন তাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী না পাঠিয়ে নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে।