কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগে কবির মিয়া (৪৪) নামে এক আবাসিক হোটেল মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর শনিবার (৩০ মে) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২৯ মে) রাতে ধর্ষণের অভিযোগে কবির মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপজেলার রমনা ইউনিয়নের রমনা ফেরিঘাট এলাকায় ওই ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে ।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উলিপুর উপজেলার ঘুঘুমারীরচর এলাকার ওই দম্পতি খালার বাড়ি সৈয়দপুর থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে রমনা ফেরিঘাটে পৌঁছান। ঘাটে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় নৌকা না পেয়ে তারা রাত্রিযাপনের জন্য রমনা ঘাট এলাকার ‘হোটেল কলি’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। হোটেলে ওঠার পর ওই নারীর স্বামী, স্ত্রী ও আট মাস বয়সী সন্তানকে কক্ষে রেখে খাবার কিনতে থানাহাট বাজারে যান। পরে খাবার নিয়ে ফিরে এলে তার স্ত্রী কান্নাকাটি করে জানান হোটেলের মালিক কবির মিয়া শিশু সন্তানের সামনেই তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। এ বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা বিষয়টি এড়িয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বামী।
এ ঘটনার পরদিন শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগীর স্বামী স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রুকুনুজ্জামান স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর স্বামী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় চিলমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারী, তার স্বামী ও শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে চিলমারী মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর শুক্রবার রাতেই উপজেলার সরকারপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত কবির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চিলমারী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার জানান, আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।