আবারও বিপাকে বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। প্রায় ২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ মামলায় নতুন মোড়। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই মামলায় এবার জ্যাকলিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিল দিল্লির আদালত। শুধু জ্যাকলিনই নন, অভিযুক্ত তালিকায় রয়েছেন অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর, তার স্ত্রী লিনা মারিয়া পল এবং আরও ১৪ জন। ফলে বহুদিনের বিতর্কিত এই মামলার বিচারপর্ব শুরু হওয়ার পথ আরও পরিষ্কার হলো।
শনিবার (৩০ মে) দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট জানায়, ইডির তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে জ্যাকলিন-সহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে। আগামী ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে সেই চার্জে সই হওয়ার কথা। এই মামলার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। অভিযোগ, দিল্লির তিহার জেলে বন্দি থাকাকালীন সুকেশ চন্দ্রশেখর প্রাক্তন র্যানব্যাক্সি কর্তা শিবিন্দর সিংয়ের স্ত্রী অদিতি সিংয়ের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, সরকারি আধিকারিক পরিচয় দিয়ে এবং সহযোগীদের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই প্রতারণা চালানো হয়েছিল।
তদন্তের সময় জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের নাম সামনে আসে। ইডির অভিযোগ, সুকেশের কাছ থেকে তিনি একাধিক দামি উপহার পেয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল বিলাসবহুল সামগ্রী এবং উচ্চমূল্যের সম্পদ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই উপহারগুলি কেনার জন্য যে অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল, তা ওই তোলাবাজির মাধ্যমে অর্জিত অর্থেরই অংশ। তবে শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন জ্যাকলিন। অভিনেত্রীর দাবি, তিনি জানতেন না যে সুকেশের দেওয়া অর্থ বা উপহারের সঙ্গে কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত ছিল।
মামলার তদন্ত চলাকালীন একসময় জ্যাকুলিন নিজেকে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা সরকারি সাক্ষী করার আবেদনও করেছিলেন। তার দাবি ছিল, তদন্তে সাহায্য করার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে। কিন্তু ইডি সেই আবেদনকে সমর্থন করেনি। সংস্থার বক্তব্য ছিল, জ্যাকলিন এই ঘটনায় সামান্য ভূমিকার কেউ নন, বরং সুকেশের প্রতারণা করে হাতানো বিপুল টাকার অন্যতম সুবিধাভোগী। পাশাপাশি তদন্তকারীদের দাবি, সুকেশের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে জানার পরও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন অভিনেত্রী।
পরে অবশ্য নিজের অ্যাপ্রুভার হওয়ার আবেদন প্রত্যাহার করে নেন জ্যাকুলিন । এবার আদালতের নির্দেশে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মামলাটিকে এক নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেল। অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হলে জ্যাকলিন, সুকেশ এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারপর্ব শুরু হবে।