ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর 'উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ'-এর ফাইনাল আজ। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের ঐতিহ্যবাহী পুসকাস অ্যারেনায় মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্সের চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই এবং ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনাল। একদিকে পিএসজির সামনে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা ধরে রেখে অনন্য কীর্তি গড়ার সুযোগ, অন্যদিকে আর্সেনালের সামনে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরা হওয়ার স্বপ্ন।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামবে ফরাসি ক্লাব পিএসজি। তাদের সামনে সুযোগ রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের পর আধুনিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যুগে দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার ট্রফি ঘরে তোলার। ১৯৯২ সালে টুর্নামেন্টের নতুন নামকরণের পর এসি মিলান, আয়াক্স, জুভেন্টাস কিংবা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো পরাশক্তিরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের বছর ফাইনালে উঠেও হেরে গিয়েছিল। একমাত্র রিয়াল মাদ্রিদ (২০১৬-১৮) টানা শিরোপা ধরে রাখতে পেরেছিল। আজ জিতলেই রিয়ালের সেই অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাবে পিএসজি।
দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে পেছনে ফেলে সদ্যই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জিতেছে গানার্সরা। উত্তর লন্ডনের রাস্তায় হাজার হাজার ভক্তের সেই শিরোপা উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন আর্সেনাল বস মিকেল আর্তেতা।
স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর দল এখন আরও বড় অর্জনের জন্য ক্ষুধার্ত, "আমাদের লক্ষ্য এখন আরও বড়। আমরা একটা ট্রফি জিতেছি এবং এখন দ্বিতীয়টি জিততে চাই। এটি (প্রিমিয়ার লিগ জয়) আমাদের জন্য আরও বড় গন্তব্যে পৌঁছানোর একটা প্ল্যাটফর্ম মাত্র। আমি আরও উঁচুতে যেতে চাই এবং এই দলটির সেই সামর্থ্য আছে।"
২০০৬ সালের ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গের পর এটি গানার্সদের দ্বিতীয় ফাইনাল। আজ পিএসজিকে হারাতে পারলে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ক্লাব ইতিহাসের ১৪০ বছরের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ 'ডাবল' সম্পন্ন করবে আর্তেতার শিষ্যরা।
দুই দলের শক্তির জায়গা
পিএসজি: গতবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ফাইনালের মতো মেগা ম্যাচের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। মাঝমাঠ ও আক্রমণের দারুণ ভারসাম্য তাদের যেকোনো দলের জন্যই বিপজ্জনক করে তুলেছে।
আর্সেনাল: ২২ বছর পর লিগ জয়ের ফলে বুকায়ো সাকা, ওডেগার্ডদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। প্রিমিয়ার লিগের সেই বিধ্বংসী ফর্ম আজ ইউরোপের মঞ্চেও ধরে রাখতে চাইবে গানার্সরা।
আজ বুদাপেস্টে কি পিএসজির রাজত্ব বজায় থাকবে, নাকি নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইউরোপ দেখবে গানার্সদের ঐতিহাসিক জয়োল্লাস? ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন পুসকাস অ্যারেনায়!