সংকটের সময় জাতির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, ১৯৭১ সালের সংকটময় সময়ে যখন জাতি দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় ছিল, তখন নিজের ও পরিবারের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন জিয়াউর রহমান।

শনিবার (৩০ মে) সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা হলরুমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সময় জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন মেজর। তাঁর মতে, সে সময় দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা আসার কথা ছিল। কিন্তু সংকটকালীন মুহূর্তে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হওয়ায় সাহসিকতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেন জিয়াউর রহমান।

আহমেদ আযম খান আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান না করে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের পরিবারের সদস্যদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রেখেও তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যান।

মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান হবিগঞ্জ অঞ্চলের একটি চা-বাগান বাংলোতে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এম এ জি ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই বৈঠকে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নামে অভিহিত করার প্রস্তাব দেন জিয়াউর রহমান এবং তা গৃহীত হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জাতির প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কামালপুর যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, তৎকালীন প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এই যুদ্ধকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন খারাপ লোক যাতে নির্বাচিত হতে না পারে। খারাপ লোক নির্বাচিত হলে মানুষ কষ্ট পাবে। যারা নির্বাচিত হবে, তাদের উদ্দেশ্য হতে হবে মানুষের সেবা করা। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মেজর জিয়া ও দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতের সরকার জনগণের শাসক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করবে।

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মাস্টার, আমজাদ হোসেন মাস্টার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সহ-সভাপতি আকবর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর রেজাসহ অন্য নেতারা।