১৯৯৪ এর ফাইনালে ইতালির রবার্তো ব্যাজ্জিওর টাইব্রেকার শট আকাশমুখো হওয়ায় ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছিল। আজ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের টাইব্রেকারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলের সদস্য গ্যাব্রিয়েলের শটও তেমনই উড়লো আকাশে।
হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে পুসকাস অ্যারেনায় নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর, পেনাল্টি শুটআউটে আর্সেনালকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট পরল পিএসজি। অন্যদিকে হারে ২২ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জেতা আর্সেনালের ডাবল জয়ের স্বপ্ন রূপ নিলো ট্র্যাজেডিতে।
কাই হাভার্টজের রেকর্ড ব্রেকিং শুরু ও পিএসজির সমতা
ম্যাচের শুরুতেই বুদাপেস্টে উপস্থিত হাজার হাজার গানার্স ভক্তকে উল্লাসে মাতান জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ। মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় পিএসজির রক্ষণভাগ চুরমার করে এক দুর্দান্ত গোল করে আর্সেনালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। আগাম লিড পেয়ে প্রথমার্ধে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।
তবে বিরতির পর খোলস ছেড়ে বের হয় লুইস এনরিকের পিএসজি। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে তারা ফল পায় ৬৫ মিনিটে। আর্সেনাল ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা নিজেদের ডি-বক্সে পিএসজির তারকা উইঙ্গার খিচা কাভারাৎস্কায়াকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে পিএসজিকে ১-১ সমতায় ফেরান ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে দুই দলের গোলরক্ষকই বেশ কিছু দুর্দান্ত সেভ করে স্কোরলাইন ১-১ ধরে রাখেন।
টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ ও ট্র্যাজেডি
আর্সেনালের এবারিচি এজে তাঁর নেওয়া পেনাল্টি শটটি পোস্টের বাইরে মারেন। তবে নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে দিয়ে ডেভিড রায়া আর্সেনালকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন।
টাইব্রেকারে যখন ৩-৩ সমতা, তখন লুকাস বেরালদো রায়াকে ভুল দিকে পাঠিয়ে পিএসজিকে এগিয়ে নেন। এরপরই গ্যাব্রিয়েল মাগালেস বল পোস্টের ওপর দিয়ে মারলে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের আর্সেনালের স্বপ্ন ধুলোয় মিশে যায়।