ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের চরভাটপাড়া গ্রামের দুর্ঘটনায় আহত পঙ্গু যুবক মো. সাদ্দাম হোসেনের (২৩) পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুন সমাজসেবক সুমন রাফি। সম্প্রতি তিনি সাদ্দামের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি চায়ের দোকান করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে চা, চিনি, সেমাই, পানীয় ও বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী সাদ্দামের হাতে তুলে দেন।
জানা যায়, সাদ্দাম হোসেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. টোকন শেখের ছেলে। তারা তিন ভাই, দুই বোন। বছর দুয়েক আগে বিয়ে করেছেন। জীবিকার তাগিদে তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় আট মাস আগে কর্মস্থলে একটি বাঁশ কাটার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। বাঁশটি ছিটকে এসে তার কোমরে আঘাত করলে গুরুতর আহত হন এবং তার মেরুদণ্ডে জটিল সমস্যা সৃষ্টি হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর থেকেই সাদ্দামের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি বেশিরভাগ সময় বিছানায় কাটাচ্ছেন। তবে সম্প্রতি কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তিনি বিছানা থেকে উঠে বসতে পারছেন, তবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারেন না বলে পরিবার জানিয়েছে।
সাদ্দামের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস তার বাবা টোকন শেখের ছোট চায়ের দোকান। ছেলের দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। ফলে দোকানটিও প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সাদ্দামের খোঁজ নিতে গিয়ে সুমন রাফি তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে কষ্টের মধ্যে আছে। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে তার চিকিৎসায় সহায়তা হতে পারে।