টিকিট কেটে ট্রেনে উঠেও আসনে বসার সুযোগ না পাওয়ায় চার যাত্রীর পক্ষে রায় দিয়েছেন ভারতের একটি ভোক্তা আদালত। যাত্রীসেবায় ব্যর্থতা এবং অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় ভারতীয় রেলওয়েকে ক্ষতিপূরণ ও জরিমানার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ভারতের বিহারের ভোজপুর জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সম্প্রতি এ রায় ঘোষণা করে। আদালত মনে করেছে, যাত্রীদের বৈধ সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করতে না পারা এবং অভিযোগ পাওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা রেল কর্তৃপক্ষের সেবাগত ব্যর্থতার শামিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন চার যাত্রী উত্তর প্রদেশের বিন্ধ্যাচল থেকে বিহারের আরা শহরে যাওয়ার জন্য লোকমান্য তিলক টার্মিনাস-পাটনা এক্সপ্রেস ট্রেনে সংরক্ষিত টিকিট নিয়ে যাত্রা করেন। কিন্তু ট্রেনে উঠে তারা দেখতে পান, তাদের নির্ধারিত আসন অন্য ব্যক্তিরা দখল করে রেখেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আসন ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানানো হলেও দখলদাররা তা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে দীর্ঘ পথ তাদের দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হয়। যাত্রাপথে তারা রেলওয়ের হেল্পলাইন ও অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি জানালেও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান পাননি।
পরবর্তীতে ট্রেনে দায়িত্ব পালনকারী টিকিট পরীক্ষকের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়। তবে তিনিও পরিস্থিতির কোনো কার্যকর সমাধান না দিয়ে অতিরিক্ত ভিড়ের কথা উল্লেখ করে যাত্রীদের মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটি আদালতে গড়ালে রেল প্রশাসন নিজেদের দায় অস্বীকার করে। তাদের দাবি ছিল, এটি মূলত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয় এবং রেলওয়ের সেবাগত ত্রুটির মধ্যে পড়ে না। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।
মামলার শুনানিতে উপস্থাপিত টিকিট, অভিযোগের নথি, ট্র্যাকিং বার্তা এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে যাত্রীরা রেলওয়ের অবহেলার কারণে অযথা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই ঘটনায় তারা মানসিক চাপ, শারীরিক কষ্ট এবং আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন।
রায়ে উত্তর-মধ্য রেলওয়ে এবং ভারতের রেল মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে দায়ী করা হয়। আদালত ৬০ দিনের মধ্যে যাত্রীদের টিকিটের মূল্য সুদসহ ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক হয়রানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ হাজার রুপি এবং মামলা পরিচালনার ব্যয় বাবদ আরও ১৫ হাজার রুপি পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করা হলে ভুক্তভোগীরা অতিরিক্ত সুদসহ আইনি প্রক্রিয়ায় অর্থ আদায়ের অধিকার পাবেন।