ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলেন না ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ ইরানের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে দুই ঘণ্টা বৈঠক করার পর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়েই বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসেছেন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং নিজের রেটিং কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি এই বৈঠক ডেকেছিলেন, কিন্তু চুক্তির জটিলতা কাটেনি।

চুক্তির শর্ত ও অচলাবস্থা
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে তার প্রস্তাবিত চুক্তির রূপরেখা দেন-

  • ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে স্থাপিত সব মাইন অপসারণ করতে হবে।
  • এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।
  • ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ ও ধ্বংস করতে হবে।

ইরানের মূল দাবি

  • বিদেশে হিমায়িত থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১২ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ছাড় করতে হবে।
  • লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন।
  • মার্কিন পক্ষ থেকে চুক্তির স্থায়িত্বের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি।

ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন করা হবে না এবং ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

ইরানের অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি, শুধু বার্তা আদান-প্রদান চলছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিবরণ নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ বর্তমানে নেই।

ইরানের শীর্ষ আলোচনাকারী মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, আমরা আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিতে দাবি আদায় করি। কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখার আগে ইরান কোনো ছাড় দেবে না।

উত্তেজনা অব্যাহত
গত ৮ এপ্রিল একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও চলতি সপ্তাহেও হরমুজ প্রণালি ও এর আশেপাশে দুই দেশ একে অপরের ওপর হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল এমন একটি চুক্তিতেই সই করবেন যা আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করবে এবং মার্কিন শর্তগুলো পূরণ করবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনের বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা তেহরানের মনে গভীর অনাস্থা তৈরি করেছে, যা বর্তমান আলোচনায় বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি